বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: সঞ্জয় ও ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নন্দন সাহা, ঢাকা ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাঁদের আদালতে হাজির করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট সীমান্ত থেকে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সঞ্জয় চিসিম ও সিমিরন দিওকে আটক করে বিজিবি। পরবর্তীতে হাদি হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সঞ্জয়কে কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে, গত ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১ নরসিংদী থেকে ফয়সালকে অস্ত্রসহ আটক করে। পরে তাঁকে হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন:

  • গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন আসামি এ পর্যন্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • এ ছাড়া ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • ইতিপূর্বে ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদও দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপরই শুরুতে করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button