
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা আজ (রোববার) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ইশিবার পদত্যাগ দেশটিকে দীর্ঘ নীতিগত অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এক বছরেরও কম সময় আগে প্রধানমন্ত্রী হলেও, শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সংসদের দুই কক্ষেই ধারাবাহিক পরাজয়ের মুখে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা সরকারের ওপর সরাসরি দায় চাপাচ্ছেন। জুলাই মাসের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এলডিপি তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানালেও তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবর্তে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দেন।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জাপানি মুদ্রা ইয়েন ও সরকারি বন্ড বাজারে ধস নেমেছে। গত সপ্তাহে ৩০ বছরের সরকারি বন্ডের মুনাফার হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইশিবার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ও সানায়ে তাকাইচি। তবে এলডিপির কোনো কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় নতুন দলীয় সভাপতি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইশিবার পদত্যাগ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। মেইজি ইয়াসুদা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ কাজুতাকা মায়েদা বলেন, ‘‘এলডিপির ধারাবাহিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর ইশিবার ওপর যে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তাঁর পদত্যাগ অবশ্যম্ভাবী ছিল।’’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইশিবার সম্ভাব্য শেষ কাজ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করা। ওই চুক্তিতে জাপান ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক কমানোর অঙ্গীকার করেছে।







