
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি এবার তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার ফেরার পর এই ইস্যুতে তার জনসমর্থন নেমে এসেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক অশনি সংকেত।
জরিপের ফলাফল বলছে, ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি একসময় যারা শক্তিশালী সমর্থক ছিলেন, সেই মার্কিন পুরুষদের মধ্যেও তার সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সোমবার শেষ হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের অভিবাসননীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ, আর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম কয়েক মাসে তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প অভিবাসী বিতাড়নে দশকের বৃহত্তম অভিযান শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে মুখোশধারী এজেন্টদের অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা এবং বিক্ষোভকারী ও মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে এক সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে এই কঠোরতার ফল উল্টো হচ্ছে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে জরিপ। বিশেষ করে, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি সমর্থন গত বছরের শেষ দিকের তুলনায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুরুষ ভোটাররা ট্রাম্পের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২৫ সালজুড়ে তাদের মধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ পুরুষ এই ইস্যুতে ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে নারী ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন গত বছরের প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার বিরল এক ঘটনায়, ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে মিনেসোটায় ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তাদের বিতর্কিত অভিবাসী বিতাড়ন অভিযান বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা কমে তার এই মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, ৩৮ শতাংশে অবস্থান করছে।
দেশজুড়ে অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ১ হাজার ১১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন এবং এতে ভুলের মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ শতাংশ।







