
একই বাণিজ্যিক ব্যাংকে একাধিক সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, যত খুশি ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ (এফডিআর) করা এবং একাধিক ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস) চালু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। তবে এই সুবিধাগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে নির্দিষ্ট নীতিমালা এবং কিছু শর্ত অনুসরণ করতে হবে। সম্প্রতি ব্যাংক সংক্রান্ত একটি তথ্যবহুল ভিডিওতে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন গ্রাহক একই ব্যাংকে একাধিক সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া আবশ্যক এবং প্রতিটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য গ্রাহককে তার আলাদা ও বৈধ উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হবে। অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলো এই বিধান অনুসরণ করে।
ফিক্সড ডিপোজিটের (FDR) ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য কোনো সংখ্যাগত বা পরিমাণগত নির্দিষ্ট সীমা নেই। একজন গ্রাহক তার আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ইচ্ছেমতো যেকোনো পরিমাণ অর্থ দিয়ে একাধিক এফডিআর করতে পারেন এবং এর মেয়াদও নিজের সুবিধামতো নির্ধারণ করতে পারেন। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে এফডিআর ভেঙে টাকা তোলার সুযোগও রাখা হয়েছে।
ডিপোজিট পেনশন স্কিম বা ডিপিএসের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ব্যাংক গ্রাহকদের একাধিক ডিপিএস চালু করার সুযোগ দেয়। তবে, কিছু কিছু ব্যাংকে সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। সরকারি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ডিপিএস সংক্রান্ত কিছু বাড়তি নীতিমালাও বিদ্যমান থাকতে পারে। তাই, ডিপিএস খোলার আগে গ্রাহককে তার নির্বাচিত ব্যাংকের নির্দিষ্ট শর্তাবলী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকল প্রকার অ্যাকাউন্ট, এফডিআর বা ডিপিএস খোলার ক্ষেত্রে ‘গ্রাহককে জানুন’ বা কেওয়াইসি (Know Your Customer) প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। অবৈধ আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ করতে ব্যাংক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয়, আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং উদ্দেশ্য যাচাই করে থাকে।
যখন কোনো গ্রাহক একাধিক বা বড় পরিমাণের এফডিআর কিংবা ডিপিএস করতে চান, তখন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক ম্যানেজারের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংক নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।
ভিডিওতে গ্রাহকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও সেবা নিতে সরাসরি নিকটস্থ ব্যাংক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। অনলাইন বা অপ্রমাণিত উৎস থেকে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, একজন গ্রাহক একই ব্যাংকে একাধিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারলেও, প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট নিয়ম, ব্যাংকের অনুমতি এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ব্যাংকভেদে নীতিমালা ভিন্ন হওয়ায়, সঠিক ও নির্ভুল তথ্যের জন্য গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করাই সর্বোত্তম।







