বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আড়াই কোটি টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ, জুডিসিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের গুদামে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি জুডিসিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১ সেপ্টেম্বর ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আশুতোষ সিংহের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ওষুধের মজুদ, রিসিভিং প্রক্রিয়া ও দায়ীদের খোঁজ করছে।

জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক, শিশুদের জন্য ওষুধ, গ্যাসের ওষুধ, সিপি, ট্যাবলেট ও সিরাপ। উল্লেখযোগ্য কিছু ওষুধ হলো:

  • Syp. Kitomar – ১ হাজার পিস, মেয়াদ শেষ ২০২৩ সালের আগস্ট

  • Tab. Cefuroxime 250mg – ৫০,৭৫০ পিস

  • Tab. Bisoprolol 5mg – ২২,৩২০ পিস

  • Tab. Montelukas 10mg – ৬,০০০ পিস

  • Tab. Montelukas 4mg – ১,০০,০০০ পিস

  • Tab. N-Bion – ১৬,০০০ পিস

  • Tab. Rosuba 5mg – ৫৩,৪০০ পিস

  • Tab. Fexofenadin 120mg – ২২,৪০০ পিস

  • Tab. Naproxen 500mg – ২,৫২,৪০০ পিস

  • Tab. Atorvastatin 10mg – ৩,৬৭,০০০ পিস

  • Tab. Rabeprazole 20mg – ১০,০০০ পিস

  • Tab. Glucozid 80mg – ২৫,৬০০ পিস

  • Tab. Lopiral Plus 75mg – ৮,৯১,০০০ পিস

  • Tnj. Ceftriaxone 250mg – ২২,০০০ পিস

  • Tab. Esoral 20mg – ১৮,৯০০ পিস

এই ওষুধগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর বাইরে আরও অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্টোরে পড়ে আছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের রোগীরা বিনামূল্যে ওষুধের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সুনামগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, “এ ঘটনায় দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।”

হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, “ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক অনুপস্থিতিতে আমি একদিনের দায়িত্বে আছি। ওষুধ নষ্টের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”

সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি সকল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button