
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) পরিবেশ, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ইবিএল দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লেপেন স্কুলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইবিএলের এমডি আলী রেজা ইফতেখার ও স্কুলের চেয়ারম্যান এ. মান্নান খান উপস্থিত ছিলেন।
জলবায়ুঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী
ইস্টার্ন ব্যাংক বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক হিসেবে বার্ষিক প্রতিবেদনে টেকসই ও জলবায়ুবিষয়ক তথ্য প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটি কার্বন নির্গমন (স্কোপ–১ ও ২) পরিমাপের পাশাপাশি অর্থায়ন করা খাতগুলোর স্কোপ–৩ নির্গমনও যাচাই করছে। জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (ডিইজি) ও জয়েন্ট ইমপ্যাক্ট মডেল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ইবিএল তাদের অর্থায়ন পোর্টফোলিও থেকে সৃষ্ট কার্বন নির্গমন কমানোর কৌশল গ্রহণ করছে। এছাড়া আইএফসির সঙ্গে অংশীদারিত্বে জলবায়ুঝুঁকি চিহ্নিত ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমও চালাচ্ছে।
ডিএইচএলের ‘গো গ্রিন প্লাস’ পরিষেবা ব্যবহার করে ব্যাংক বাণিজ্য নথি পরিবহনে টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল ব্যবহার করছে, যার ফলে কমপক্ষে ৩০% কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হয়েছে।
গ্রিন অফিস ও স্মার্ট কার্যক্রম
ইবিএল তাদের প্রধান কার্যালয়কে পরিবেশবান্ধব গ্রিন হেড অফিস হিসেবে গড়ে তুলেছে। এতে রয়েছে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা, ১৬ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সুবিধা ও প্লাস্টিকমুক্ত কর্মপরিবেশ।
স্মার্ট এনার্জি পদ্ধতিতে মোশন সেন্সর লাইট, সূর্যালোকের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী এসি ও হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণপত্র (এলসি) প্রক্রিয়া, ই-লার্নিং ও ই-সার্টিফিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে কাগজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতায় উদ্ভাবনী পদক্ষেপ
ইস্টার্ন ব্যাংক শুধু অনুদানভিত্তিক সিএসআর নয়, বরং সমাজ উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করছে। যেমন, ‘ইবিএল ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডস’–এর মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এমন পাঁচটি উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ, ভাসানচরের ‘ফরেস্ট ফর দ্য ফিউচার’ প্রকল্প এবং আইসিডিডিআরবির সঙ্গে যৌথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি উদ্যোগে ইবিএল সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
ইস্টার্ন ব্যাংক বিশ্বাস করে, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তখনই সফল হয়, যখন তা বর্তমানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়। এই মূলনীতিকে সামনে রেখে ইবিএল টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।







