বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ: আট বছরেও পরীক্ষা হয়নি, আবার আসছে নতুন বিজ্ঞপ্তি

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সারা দেশের উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৬টি। প্রতিদিনের নথি-নিবন্ধন, অনলাইন তথ্য হালনাগাদ, বিল-ভাতা তৈরি, উপবৃত্তির তালিকা যাচাইসহ নানা কাজের দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের হলেও সেখানে কোনো অফিস সহকারী নেই। শুধু আদিতমারী নয়, একই চিত্র দেশের বহু উপজেলায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৮০১টি পদ এবং অফিস সহায়কের ১ হাজার ৫০৫টি পদ শূন্য। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিল-ভাতা তৈরি, তথ্য আপলোড, মাঠ তদারকি ও প্রকল্পসংক্রান্ত কাগজপত্রের কাজে দেরি হচ্ছে।

২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এসব পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। প্রায় তিন লাখ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। আবেদন ফি বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকা জমা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ আট বছর ধরে প্রক্রিয়াটি ঝুলে আছে।

একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এত বিশাল সংখ্যক আবেদনকারীর পরীক্ষাই হলো না। এতে মাঠপর্যায়ের শূন্য পদ দিন দিন বেড়েই চলেছে।”

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ের দাপ্তরিক কাজ সচল রাখতে এসব পদে পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি। ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তির পর আর কোনো কাজ এগোয়নি, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জেনে বিস্মিত হয়েছি। আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। ২০১৭ সালের আবেদনকারীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা আছে।”

শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, শূন্য পদ পূরণ হলে তথ্যপ্রবাহ, আর্থিক নিষ্পত্তি ও বিদ্যালয় তদারকির গতি বাড়বে। শিক্ষক-অভিভাবকরা দ্রুত সেবা পাবেন। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর হবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button