র্যাগিং ইস্যু-জাবির ১৬ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার,
শিবিরের সম্পৃক্ততা নেই

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২১ নম্বর হলে (সাবেক শেখ রাসেল হল) র্যাগিংয়ের অভিযোগে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বহিষ্কৃতদের মধ্যে দুজনকে ছাত্রদলের একটি ফেসবুক পেজ থেকে শিবিরের কর্মী বলে দাবি করা হলেও, অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা কেউই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন তানভীর রহমান মুন ও আব্দুল্লাহ আল সাঈদ। সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই ছাত্রদলঘনিষ্ঠ “জেইউ মিডিয়া সেল” নামের একটি ফেসবুক পেজে তাদেরকে শিবিরকর্মী দাবি করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে তাদের ছবি ও কিছু ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়, তবে কোনোটিতেই শিবিরসংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই। শুধু জেলার একজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় স্ট্যাটাস শেয়ার করেছিলাম। সেই স্ক্রিনশট ব্যবহার করে আমাকে শিবির হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “এই মিথ্যা প্রচারণায় আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কেউই সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। শাখা সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “র্যাগিং ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিবিরের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ওই দুই শিক্ষার্থী গত রমজানে আয়োজিত গণইফতারে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র।”
শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “র্যাগিংয়ের ঘটনায় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিয়েছে, আমরা তা সমর্থন করি। কিন্তু অভিযুক্তদের শিবির কর্মী বলে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।”
বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহপাঠীরাও জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কেউই শিবিরের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর রাতে দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন (১৩ অক্টোবর) প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম ১৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, আবু তালহা রনি, রাজিব শেখ, এস এম মাহমুদুন্নবী, আবু সাঈদ, জান্নাতুল আদন, আহমেদ আরেফিন রাতুল, তাসনিমুল হাসান জুবায়ের, মাহমুদুল হাসান ফুয়াদ, আল হাসিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, রাকিবুল হাসান নিবিড়, জাহিদুল ইসলাম ও উশান্ত ত্রিপুরা। তারা সবাই ২১ নম্বর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং একই বিভাগের ছাত্র।







