বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

বিজয় দিবসে চালু হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

আরিফুর রহমানঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই টার্মিনালটি উদ্বোধন করতে চাই। আপনারা জানেন, বিগত সরকারের আমলে শুধু টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হয়েছিল। এটি চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখানে ইন্টারনেট নেই, মেশিনপত্রের ব্যবস্থাপনা নেই এবং কীভাবে এটি চালু করা হবে, তারও কোনো পরিকল্পনা ছিল না।’

রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আগে এমন একটি চুক্তি ছিল, যেখানে রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে এবং বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানি পাবে। আমি বারবার বৈঠক করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অংশ ২৭ শতাংশে আনতে সক্ষম হয়েছি। ২৭ শতাংশ হলে আমাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।’

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, টার্মিনাল চালু না হওয়ায় এর ঋণের কিস্তি সিভিল এভিয়েশনের অন্যান্য খাতের আয় থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘টার্মিনালটি চালু করা না গেলে অন্যান্য খাতের আয় থেকেই এভাবে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক হলেও যাতে এটি চালু করা যায়।’

এর আগে গত ৩০ আগস্ট সংসদে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নামে বিগত সরকার শুধু ভবন উদ্বোধন করেছিল। টার্মিনালের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তখনও সম্পন্ন হয়নি। এটি চালু করতে আরও ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

টার্মিনালের নাম পরিবর্তন হবে কিনা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি নাম পরিবর্তনের জন্য জনগণের অর্থ ব্যয় করতে নয় বরং কিভাবে দ্রুত টার্মিনাল চালু করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান।

২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি অর্থ জাইকার ঋণ থেকে নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button