সিংগাইরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ-আদালতে মামলা

মামলা প্রত্যাহারে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি; দুই দোকানের জায়গা দখলেরও অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ):
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মামলা প্রত্যাহারে চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী মামলা করেছেন এফ এম রিপন আক্তার ফজলু (৪৩) নামে এক নারী। একই সঙ্গে মামলার ১ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে তার বড় ছেলে এফ এম রিদম প্রান্তর পৃথিবীর নামে বরাদ্দ থাকা দুটি দোকানের জায়গা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও করেছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সিংগাইর থানা আমলী আদালতে নালিশী দরখাস্তটি দাখিল করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মামলাটি মানিকগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের মাধ্যমে তদন্তের আবেদন করেছেন বাদিনী।
নালিশী দরখাস্তে ১ নম্বর আসামি হিসেবে মাহাবুবুর রহমান মিঠু (৫০), ২ নম্বর আসামি জহির (৫০) এবং ৩ নম্বর আসামি আব্দুল হক (৪৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
নালিশী দরখাস্তে বাদিনী অভিযোগ করেন, গত ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ৩ নম্বর আসামি অপর দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ির নিচতলার গেটের সামনে যান। এ সময় তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি তার স্বামীর দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি জরিমানা বাবদ এক লাখ টাকা এবং চাঁদা বাবদ আরও এক লাখ টাকা—মোট দুই লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বাদিনী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও নালিশে উল্লেখ রয়েছে।
দুই দোকানের জায়গা দখলের অভিযোগ
এদিকে ১ নম্বর আসামি মাহাবুবুর রহমান মিঠুর বিরুদ্ধে নিজের বড় ছেলে এফ এম রিদম প্রান্তর পৃথিবীর নামে বরাদ্দ থাকা দুটি দোকানের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রিপন আক্তার।
বাদিনীর দাবি, তিনি তৎকালীন জেলা পরিষদের সদস্য থাকাকালে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সদস্যদের জন্য মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেউথা রোডের পাশে দোকানের পজিশন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার বাড়ি সিংগাইরে হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের একটি দোকানের পরিবর্তে তাকে দুটি দোকানের পজিশন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ জন্য জেলা পরিষদে সরকারি রাজস্বের টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
রিপন আক্তারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগে ১ নম্বর আসামি নিজে উপস্থিত থেকে তার দুটি দোকানসহ মোট আটটি দোকানের পজিশন দখল করে নেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে কথা বলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দোকান নির্মাণের সময় তিনি সেখানে গিয়ে বাধা দিলে ১ নম্বর আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। তারা তাকে মারধর না করলেও হত্যার হুমকি এবং প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদিনী বলেন, ঘটনার বিচার এবং দোকানের জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য জেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনো তিনি তার দোকানের জায়গা ফিরে পাননি।
ডিবির বক্তব্য
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানবেন্দ্র মালো বলেন, আদালতে দাখিল করা নালিশী মামলার কপি এখনো ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছায়নি। মামলার কপি ডিবি দপ্তরে পৌঁছালে অভিযোগ পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ১ নম্বর আসামি মাহাবুবুর রহমান মিঠু ও অপর আসামিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আদালতে দাখিল করা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।







