
গত দেড় দশকে বিরোধী দলীয় রাজনীতির চরম প্রতিকূল সময়ে যিনি বিএনপির ঝান্ডা ধরে রেখেছিলেন অবিচল চিত্তে, সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে দফায় দফায় হামলা, মামলা ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন ৭৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও, এবারই প্রথম তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারে মির্জা ফখরুলের এই অন্তর্ভুক্তি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত এই সাংসদ দলের দুর্দিনের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত।
তার রাজনৈতিক জীবনের বর্ণাঢ্য যাত্রার শুরুটা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বাম রাজনীতির মাধ্যমে। পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে যোগ দেন সক্রিয় রাজনীতিতে। ১৯৯২ সালে বিএনপির জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের হাইকমান্ডে তার অবস্থান সুসংহত হয়।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে অতীতে ৫০টি মামলা ছিল, যার সবগুলো থেকেই তিনি বর্তমানে অব্যাহতি পেয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে ব্যাংকে জমা ও নগদ অর্থ মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার অস্থাবর এবং ১৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য জানা গেছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







