
ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনা দাশসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলেন নিহার রঞ্জন (৪০), যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি। পুলিশি তদন্ত এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী তথ্যে উঠে এসেছে যে, নিহার রঞ্জনই ছিলেন সুনামগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী এবং এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিহার রঞ্জন এবং সুনামগঞ্জ পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বখতিয়ারুল হক মাহিকে সুনামগঞ্জ থেকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহার রঞ্জন গত এক বছর ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উত্তেজনাপূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য পুলিশ প্রত্যক্ষ করে আসছিল এবং তার গতিবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, পলাতক এক আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশনায় নিহার রঞ্জনকে এককভাবে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নাশকতার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকে সহযোগিতা করার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থেকে আরও পাঁচজনকে মোট ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তার সহযোগী হিসেবে তৈরি রাখা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নিহার রঞ্জনের অতীত অভিজ্ঞতা তাকে এই নাশকতার পরিকল্পনায় বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল। তিনি বিগত সরকারের আমলে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত ছিলেন। ফলে পৌরসভা কার্যালয়ের ভেতরের সবকিছুই তার নখদর্পণে ছিল। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, গত ১৩ আগস্টকে ঘিরে রাতের বেলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে একটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল নিহার রঞ্জনের নেতৃত্বে।
যুব মহিলা লীগের নেত্রী মিনা দাশ (যিনি ১২ নভেম্বরের ঝটিকা মিছিলে অগ্রভাগে ছিলেন) ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য ঢাকা যাচ্ছিলেন। তাকে বাস কাউন্টার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও বাসের টিকিট জব্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃত এই তিনজনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত, ২০১৩)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং এই নাশকতার ষড়যন্ত্রে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







