
ঢালিউডের একসময়ের আলোচিত অভিনেতা আহমেদ শরীফ দীর্ঘদিন ধরে দেশে নেই। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন। এ সময় তিনি এফডিসিতে হাজির হয়ে দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ, শিল্পী জীবনের অসুবিধা এবং ব্যক্তিগত কষ্ট সম্পর্কে খোলাখুলি জানালেন।
আহমেদ শরীফ সর্বশেষ হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘প্রিয়তমা’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। এই ছবিতে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে দেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদনশিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অর্থকষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতা বাধ্য করেছে বিদেশে থাকতে
সংবাদদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আহমেদ শরীফ বলেন, “আমি যদি আজ বাংলাদেশে থাকতাম, নিশ্চিত আমার অবস্থা ভালো থাকত না। আমাকে হাত পেতে হতো, লোকের কাছে টাকা চাইতে হতো। চিন্তা করতে হতো, আমার বাড়িতে খাবার নেই, চলার জন্য বলতে হতো, আমাকে টাকা দাও।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থকষ্ট এবং শিল্পী জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে আমাকে পাড়ি জমানা ছাড়া উপায় ছিল না। আজ অনেক শিল্পী শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু চলচ্চিত্র নয়, টেলিভিশন শিল্পীরাও বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। এখানে সুনিশ্চিত জীবনযাপনের কোনো নিরাপত্তা নেই, আর এটাই সবচেয়ে কষ্টের বিষয়।”
আহমেদ শরীফ আরও বলেন, “আমরা চাই দেশের শিল্পীরা ভালো থাকুক, শিল্পীদের জন্য নিশ্চয়তা তৈরি হোক। যা আজ পর্যন্ত কখনও হয়নি। যদি আমি ভবিষ্যতে দেশে আসি, সরকারের কাছে নিশ্চিত ব্যবস্থা চাইব। শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আহমেদ শরীফ ও তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তিনি এটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
আজ এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উদ্যোগে প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সোহেল রানা, আহমেদ শরীফসহ অনেক কলাকুশলী। অনুষ্ঠান শেষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং আহমেদ শরীফের খোলাখুলি বক্তব্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এটি প্রমাণ করে, অনেকেই সৃজনশীল প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অর্থ ও নিরাপত্তার অভাবে দেশের বাইরে পাড়ি জমাচ্ছেন।
আহমেদ শরীফের কথায় স্পষ্ট, শিল্পীরা শুধু সৃজনশীলতাই নয়, জীবিকার নিরাপত্তাও চাই। বাংলাদেশে বিনোদন ও চলচ্চিত্র শিল্পকে উন্নত করতে হলে সরকারের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রয়োজন, যাতে কেউ আর হাত পেতে না থাকে, আর শিল্পীরা দেশের মাটিতে নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।







