বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

জুমা মোবারক’ শুভেচ্ছা বিনিময়: জায়েজ নাকি বিদআত?

ইসলামিক ডেস্ক

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

মুসলিম উম্মাহর জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে পবিত্র দিন হলো জুমা। এই দিনে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ বরকত প্রদান করেছেন এবং নবীজী (সা.) এটিকে পৃথিবীর অন্যান্য দিনের চেয়ে মর্যাদাশীল ঘোষণা করেছেন। জুমার নামাজ ও করণীয় সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অসংখ্য ফজিলতের বর্ণনা রয়েছে।

তবে, বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রথা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইসলামী শাস্ত্রে জুমার দিনে এমন কোনো নির্দিষ্ট অভিবাদনের উল্লেখ নেই। নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কোনো আমল যা ইসলামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’ (বোখারি: ৩৫০৮)।

বিশেষজ্ঞদের মত:

  • ‘জুমা মোবারক’ কেবল একটি দোয়া হিসেবে বলা যাবে।

  • এটিকে নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রথা মনে করলে তা বিদআতের দিকে ঝুঁকতে পারে।

  • ঈদের দিন যেমন শুভেচ্ছা বিনিময় সুন্নাহমতে প্রমাণিত, জুমার দিন সেটি প্রমাণিত নয়।

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, জুমার দিন পরস্পরকে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানানো সুন্নাহ নয়। তাই এটি নিয়মিত করার চেষ্টা না করাই উত্তম।

সুন্নাহ অনুযায়ী করণীয়:

  • জুমার দিন ফরজ গোসলের মাধ্যমে মসজিদে আগেভাগে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • হাদিস অনুযায়ী, মসজিদে আগেভাগে যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা আলাদা কোরবানি সওয়াব লিপিবদ্ধ হয় (বোখারি: ৮৮১)।

  • ইমামের খুতবা চলাকালীন ফেরেশতারা নামাজদাতাদের আমল লিখে না, শুধু খুতবা শোনার সুবাদে সওয়াব মেলে।

‘জুমা মোবারক’ বলতে পারা একটি দোয়া হিসেবে জায়েজ, তবে এটিকে নিয়মিত শুভেচ্ছা বিনিময় বা প্রথার অংশ বানানো সুন্নাহসম্মত নয়। মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন ফরজ নামাজ, আগেভাগে মসজিদে উপস্থিতি ও খুতবা শোনা-তে মনোনিবেশ করা উচিত।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button