ইসরায়েলর গাজা সিটি দখল অভিযান:৭৫% নিয়ন্ত্রণে

ইসরায়েল দাবি করেছে—বর্তমানে গাজা ক্ষেত্রের প্রায় ৭৫% নিয়ন্ত্রণে, আর গাজা সিটির প্রায় অর্ধেকও ইতিমধ্যে তাদের দখলে রয়েছে। ২ মাসের অব্যাহত সফরে নিহতের সংখ্যা ৬৪,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর করছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নতুন করে গাজা সিটির ভেতরে প্রবেশ করে শহরের বড় একটি অংশ দখলে নিয়েছে। শহরের ওপর চালানো এই সামরিক অভিযান এখন গাজা’র হাজারো বাসিন্দাকে দক্ষিণ দিকে পালাতে বাধ্য করছে।
ইসরায়েল বলছে, গাজা সিটি এখনও হামাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তাই এই শহরকে লক্ষ্য করেই তারা ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’ চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা গাজার ৭৫ শতাংশ এলাকাই এখন নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
“চলে যাও, নয়তো মরো”—গাজাবাসীর সামনে ভয়ংকর বাস্তবতা। শহরের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছে, “এই এলাকা এখন যুদ্ধক্ষেত্র। জীবিত থাকতে হলে আপনাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।” অথচ বহু মানুষ জানেনই না, তারা যাবেন কোথায়। কারও বৃদ্ধ মা-বাবা, কারও আবার ছোট ছোট সন্তান—এই পরিস্থিতিতে যারা রয়ে গেছেন, তাদের জন্য কোনো আশ্রয় নেই।
একজন গাজাবাসী যুবক বলেন,“আমরা আর কিচ্ছু চাই না, শুধু বাঁচতে চাই। সকালে বের হয়ে দেখলাম, আমার প্রতিবেশীর বাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে।” উঁচু ভবন ধ্বংস, রিমাল ও আল-মুশতাহা এলাকা হামলার মুখে।সাম্প্রতিক বিমান হামলায় গাজা সিটির আল-মুশতাহা ও রিমাল এলাকায় একাধিক উচ্চতল ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করছে, এসব ভবন হামাসের ঘাঁটি ছিল। তবে স্থানীয়দের মতে, ওই ভবনগুলোতে সাধারণ মানুষও বাস করতেন। অন্তত ২৭ জন মারা গেছেন এই হামলায়, যাদের অনেকেই শিশু।
দুর্ভোগে নারী-শিশু, পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে এক প্রজন্ম। জাতিসংঘের হিসেবে, যুদ্ধের কারণে গাজায় অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে। আহত হয়েছে আরও প্রায় ৪০ হাজারের মতো। খাবার ও ওষুধের অভাবে হাসপাতালগুলোতেও চলছে ভয়ংকর সংকট।
রাজনীতি ও বাস্তবতার সংঘাত,এই সময় ইসরায়েলের ভেতরেই মতভেদ দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ থামিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো দরকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু চান পুরো গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে।
সারা বিশ্বের চোখ আজ গাজার দিকে।বিশ্বের বহু দেশ এই হামলার সমালোচনা করছে। অনেকে বলছে, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতোই। কিন্তু যুদ্ধ চলছে—একটি শহরের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন, জীবনের গল্প।
এই যুদ্ধ কবে থামবে, তা কেউ জানে না। কিন্তু যেটা স্পষ্ট—এই লড়াইয়ে হারছে সাধারণ মানুষ, যারা শুধু একটু শান্তি আর স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিল।







