
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার কারণেই এই ‘অপরাজেয়’ নেত্রীকে অকালে বিদায় নিতে হয়েছে। আর এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবেন না।
আতশবাজি-পটকা ফোটালেই জেল-জরিমানা
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার ঠিক আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নজরুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে বেগম জিয়া যখন কারাগারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি সুস্থ অবস্থায় পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছরের নির্জন কারাবাস এবং পরবর্তী চার বছরের গৃহবন্দী জীবনে তাঁকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের বারবার পরামর্শ সত্ত্বেও তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্রেফ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”
প্রতিহিংসার রাজনীতি ও পতন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে ব্যক্তিগত শত্রু হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তাঁকে তাঁর শহীদ স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে ইতিহাস তার বিচার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা তাঁকে জেল পাঠিয়েছে, যারা তাঁকে গৃহহীন করেছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা এমনকি ঠিকমতো রান্না করা খাবার খাওয়ার সময়টুকুও পায়নি।”
এক অনন্য রাজনৈতিক জীবন খালেদা জিয়ার ৪৩ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিনি ছিলেন ‘আপসহীন দেশনেত্রী’। ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তিনি কখনোই কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর জনপ্রিয়তার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যতবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, সব আসনেই বিজয়ী হয়েছেন—যা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও শেষ ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে নজরুল ইসলাম খান জানান, ১৯৭১ সালে দুই শিশুপুত্রসহ তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলেন। অথচ এমন এক দেশপ্রেমিক নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “ম্যাডাম বলতেন, ‘বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই, বাংলাদেশই আমার ঠিকানা।’ আজ এই দেশের মাটিতেই তিনি তাঁর স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন।”
বক্তব্যের শেষে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।







