
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এক বিশাল জানাজা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিরবিদায় জানানো হলো বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। জানাজা শুরুর প্রাক্কালে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঋণের দায়ভার ও ক্ষমা প্রার্থনা
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান তাঁর মায়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বেগম জিয়ার আচরণ বা কথায় কেউ যদি সামান্যতম কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি যেন তা ক্ষমা করে দেন।
একইসঙ্গে তিনি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলেন, “আমার মা যদি কারো কাছে কোনো ঋণ রেখে গিয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি তাঁর সেই দেনা পরিশোধের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি।”
শোকাতুর জানাজা ও বিশিষ্টজনের উপস্থিতি
আজ বুধবার বেলা ঠিক ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজা শুরু হয়। মাত্র দুই মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ নামাজে অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। জানাজার সারিতে তারেক রহমানকে ডিজিটাল মাধ্যমে উপস্থিত রাখা হয় এবং তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।

দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক বিদায়
জানাজা শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া আপসহীন লড়াই ও নিগ্রহের এক জীবন্ত ইতিহাস। দল-মত নির্বিশেষে আজ যে মানুষের ঢল নেমেছে, তা প্রমাণ করে তিনি দেশবাসীর কতটা প্রিয় ছিলেন।
শেষ গন্তব্য
জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে তাঁর স্বামী ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের অবসান ঘটিয়ে আজ দুই রাষ্ট্রনায়ক আবারো পাশাপাশি শায়িত হলেন।







