
রংপুরের রাজপথে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপির উদীয়মান নেতা মহিদ আলী কমল এক বিশাল জনসভায় তীব্র হুংকার ছেড়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্বৈরাচারী শাসনের মূলহোতা শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং তার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।
গতকাল বিকেলে রংপুরের স্থানীয় একটি জনসভায় হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনগণের দাবি: ‘খুনি’র বিচার বাংলার মাটিতেই হবে
মহিদ আলী কমল তার বক্তব্যে বলেন, “রংপুরের মাটি আবু সাঈদের মাটি, বিপ্লবের মাটি। এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি ঘোষণা করছি, শত শত ছাত্র-জনতাকে হত্যাকারী শেখ হাসিনা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে পার পাবেন না। বাংলার প্রতিটি পরিবার যারা স্বজন হারিয়েছে, তাদের চোখের জল তখনই শুকাবে যখন এই খুনিকে ধরে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিক আজ ঐক্যবদ্ধ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে হোক বা কূটনৈতিক চাপে হোক, এই পলাতক স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
নেতা-কর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশনা
রংপুরের এই উদীয়মান নেতা তার বক্তব্যে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “বিপ্লব পরবর্তী এই সময়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। আমাদের লক্ষ্য এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা। আর সেই ঋণের প্রথম কিস্তি হলো শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করা।”
সভায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। কমলের প্রতিটি স্লোগানের সাথে উপস্থিত জনতা ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ ধ্বনিতে চারপাশ প্রকম্পিত করে তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রংপুরের রাজনীতিতে মহিদ আলী কমলের এই জোরালো অবস্থান ও কড়া বক্তব্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।







