বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সাশ্রয়ী দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট: বিটিসিএল-এর ‘জিপন’ সেবায় গ্রাহকদের আগ্রহ তুঙ্গে

মাহবুবুর রহমান মাসুদ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ

বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেট এখন বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) নিয়ে এসেছে অত্যাধুনিক জিপন (GPON) প্রযুক্তি। সাশ্রয়ী মূল্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবার কারণে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই সেবা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জিপন (GPON) প্রযুক্তি কী?

জিপন বা ‘গিগাবিট প্যাসিভ অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক’ হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, একটি মাত্র সংযোগের মাধ্যমে গ্রাহক একই সাথে উচ্চগতির ইন্টারনেট, টেলিফোন এবং টেলিভিশন (আইপিটিভি) সেবা গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণ ব্রডব্যান্ডের তুলনায় এটি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং ডেটা লস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

প্যাকেজ ও মূল্যতালিকা: হাতের নাগালে উচ্চগতি

বিটিসিএল ২০২৫ সালের জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। মাত্র ৩৯৯ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্যাকেজগুলো সাধারণ মানুষের বাজেটের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে।

প্যাকেজের নামইন্টারনেটের গতিমাসিক চার্জ (ভ্যাটসহ)
সুলভ-৫৫ এমবিপিএস৩৯৯ টাকা
সুলভ-১২১২ এমবিপিএস৫০০ টাকা
সুলভ-১৫১৫ এমবিপিএস৮০০ টাকা
সুলভ-৩০৩০ এমবিপিএস১৩০০ টাকা
সুলভ-৫০৫০ এমবিপিএস১৭০০ টাকা
ক্যাম্পাস-১৫১৫ এমবিপিএস৫০০ টাকা (বিশেষ প্যাকেজ)

কোনো গ্রাহক যদি ইন্টারনেটের সাথে টেলিফোন সুবিধা নিতে চান, তবে তাকে অতিরিক্ত মাত্র ১০০ টাকা গুনতে হবে। এছাড়া ১৫ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির প্যাকেজে বিটিসিএল দিচ্ছে বিনামূল্যে ONT রাউটার সুবিধা।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করতে বিটিসিএল নিয়ে এসেছে ‘ক্যাম্পাস-১৫’ প্যাকেজ। মাত্র ৫০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস গতির এই ইন্টারনেট সংযোগটি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ এবং অনলাইন ক্লাসের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কেন বেছে নেবেন বিটিসিএল জিপন?

  1. সরকারি নিশ্চয়তা: সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে সেবার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
  2. সাশ্রয়ী খরচ: বেসরকারি আইএসপি-গুলোর তুলনায় বিটিসিএল-এর রেট অনেক কম।
  3. নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ: ফাইবার অপটিক সরাসরি গ্রাহকের ঘরে পৌঁছানো হয় বলে ঝড়-বৃষ্টিতেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় থাকে না।
  4. সহজ আবেদন: গ্রাহকরা ঘরে বসেই ‘টেলিসম’ অ্যাপ বা বিটিসিএল-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারছেন।

সংযোগ পাওয়ার উপায়

আগ্রহী গ্রাহকরা খুব সহজেই নিচের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন:

  • অনলাইন পোর্টাল: mybtcl.btcl.gov.bd

  • মোবাইল অ্যাপ: গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘টেলিসম’ (Teleshom) অ্যাপ।

  • কল সেন্টার: যেকোনো সমস্যা বা তথ্যের জন্য ১৬৪০২ নম্বরে কল করে সহায়তা নেয়া যাবে।

সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বিটিসিএল দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য জিপন প্রযুক্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আপনার এলাকায় বিটিসিএল-এর কভারেজ থাকলে, আধুনিক এই সেবাটি গ্রহণ করা আপনার অনলাইন অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button