
কামরুল আলম
জাতিসংঘ জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে শীতল আবহাওয়ার প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা লা নিনা ফিরে আসতে পারে।
তবে এ সময় লা নিনা বিরাজ করলেও বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, মার্চ থেকে নিরপেক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পরিস্থিতি গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ। অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে এই সম্ভাবনা বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লা নিনা বনাম এল নিনো লা নিনা প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমিয়ে আনে, যার প্রভাবে বাতাস, চাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যায়। এর বিপরীতে এল নিনো সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে কোথাও খরা আবার কোথাও অতিবৃষ্টি দেখা দেয়।
২০২৪: রেকর্ড উষ্ণ বছর:
জাতিসংঘ জানায়, গত বছর এল নিনো শেষ হলেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রায় রেকর্ড ছুঁয়েছে। ফলে ২০২৪ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
ডব্লিউএমও উল্লেখ করেছে, লা নিনা ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই ঘটছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে। এর ফলে চরম আবহাওয়া, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
তাপমাত্রা প্রবণতা:
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ অঞ্চল ও দক্ষিণ গোলার্ধের বিস্তৃত অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে।
ডব্লিউএমও প্রধানের বক্তব্য:
ডব্লিউএমও প্রধান সেলেস্ট সাওলো বলেন, লা নিনা ও এল নিনো পরিস্থিতি এবং মৌসুমি পূর্বাভাস কৃষি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও পরিবহন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসব পূর্বাভাস কোটি কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে সহায়তা করেছে এবং প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হাজারো মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।







