বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

১৩ নভেম্বর আওয়ামিলীগের লকডাউন ঘিরে ভয়ঙ্কর নাশকতার পরিকল্পনা: মূলহোতা নিহার রঞ্জন গ্রেফতার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জে যখন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সরকার পতনের পর থেকে পলাতক, তখনো দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছিল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিহার রঞ্জনকে। এক কঠিন সময়ে দলের হাল ধরে তিনি আলোচনায় আসেন। কিন্তু এই সক্রিয়তাই তাঁকে টেনে নিয়ে গেল অন্ধকার কারাগারে। সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় এখন তিনি কারাগারে বন্দী।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিহার রঞ্জন-কে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের মোট ৩৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশকেই পলাতক দেখানো হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যখন সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা সরকার পতনের পর থেকে পলাতক, ঠিক সেই সময় ১২ নভেম্বরের ঝটিকা মিছিলে নিহার রঞ্জনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়। পুলিশি তদন্তে তাঁকে নাশকতার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা যায়, জ্যেষ্ঠ এক আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশনায় তিনি নাশকতার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পান এবং এই কাজে সহযোগিতার জন্য তার সাথে আরও ১৪-১৫ জন সহযোগীকে তৈরি রাখা হয়। তারা তিনটি দলে ভাগ হয়ে পৃথক স্থানে নাশকতা চালিয়ে ১৩ নভেম্বরের লকডাউন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য রাতে ঢাকায় রওয়ানা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সুনামগঞ্জ ও বিশম্ভরপুরে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় নাশকতা সহ শহীদ মিনারে পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে হামলার দায় জামাতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের উপর চাপিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেইসবুকভিত্তিক আওয়ামিলীগ সমর্থিত কিছু গ্রুপ ও পেইজের মাধ্যমে নাশকতার খবর ইসলামি ছাত্রশিবিরের উপর চাপিয়ে দিয়ে ফেইসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেশের অবস্থা অস্থিতিশিল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কিছু পেইজ যেমনঃ বিজয় একাত্তর, TV 24, দৈনিক আজকের কন্ঠ, টিম ৭১, Anwar TV, শেখ হাসিনা সাইবার ফোর্স, শেখ হাসিনার সৈনিক, নিউক্লিয়াস, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, শামীম ওসমান, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী রাহমান, মঞ্চ ৭১, Public Voice Bangladesh, The Crack Team, Crack Platoon-Bangladesh সহ ৫০ এর অধিক ভুয়া ফেইসবুক পেইজ ও গ্রুপের মাধ্যমে নাশকতার খবরটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পেইজ ও গ্রুপগুলোর সাথে যোগাযোগ করেন নিহার রঞ্জন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহার রঞ্জন গত এক বছর ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য প্রচারের বিষয়টি পুলিশ প্রত্যক্ষ করে আসছিল। নাশকতার পরিকল্পনা ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার খবর পেয়ে লালপুর সেতুর ওপর অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে এবং বখতিয়ারুল হক মাহিকে আটক করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুব মহিলা লীগ নেত্রী মিনা দাশকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত এই তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত, ২০১৩)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button