বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

অবৈধ সম্পদের তালিকা মিরপুর বিআরটিএ’র দালাল রুবেল দম্পতির!!!

শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার সহ অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। তাদের কাছে সেবা গ্রহীতারা জিম্মি !

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক।

মিরপুর বিআরটিএ’র দালাল হিসেবে কাজ করত হারুন অর রশিদ রুবেল । বিআরটিএ’র কর্মকর্তাসহ সকলেই চিনে দালাল রুবেল হিসেবে। কিন্তু বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়ে সরকারি অফিসের টেবিল– চেয়ার ব্যবহার করত রুবেল ! সেবা গ্রহীতারা জানতেন রুবেল একজন বড় অফিসার ।

পরোক্ষভাবে সেবা গ্রহীতারা জানতে পারেন রুবেল একজন দালাল। অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে বিআরটিএ’র অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নামে-বেনামে ফ্ল্যাট, গাড়ি, সিএনজিসহ অঢেল সম্পদ গড়েছে রুবেল। এমনকি তার স্ত্রীর নামেও একাধিক সিএনজি রয়েছে। সেগুলো ক্রয় করে দিয়েছে দালাল রুবেল তার প্রমাণও মিলেছে। একাধিক অভিযোগে জানা গেছে, রুবেল ট্যাক্স টোকেন জালিয়াতি ও বিকাশ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্বের আয়ের উৎস আত্মসাৎ করেছে।

এভাবেই দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরে পর বছর ধরে বিআরটিএতে দালালী করে রুবেল কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এখন সে বিআরটিএর পাশেই শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে গেছেন। রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে এসব অর্থ- সম্পদের মালিক হয়েছেন। রুবেল সরকারি চেয়ার- টেবিল ব্যবহার করে এবং এই সুযোগে তার দালালি কাজ পুরোদমে চালিয়ে যায়। সে দালালের কাজ করত বিআরটিএ’র গাড়ির মালিকানা বদল, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত লেনদেন মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো। রুবেল এখন শূন্য থেকে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তার নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি; এছাড়াও রয়েছে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

দিনমজুর মো. অহিদুর রহমান তালুকদারের বড় ছেলে মো. হারুন অর রশিদ রুবেল (৩৫) । অহিদুর রহমানের দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে রুবেল বড়। দারিদ্রতার বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১১ সালে মামার হাত ধরে পা রাখেন ঢাকায়। মিরপুর বিআরটিএ মেট্রো–১ সার্কেলের, সহকারী পরিচালক (রেজিস্ট্রেশন) জামাল উদ্দিনের বহিরাগত অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ নেয়। তাকে দিয়ে চা, ফাইলপত্র আনা নেওয়ার কাজ করতো। ১ বছর কাজ করার পর র‍্যাংকস মোটরসের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে রুবেলের। সেখান থেকে যুক্ত হন কোম্পানিটির ট্রান্সপোর্ট বিভাগে, সেখানে প্রায় ২ বছরের মতো কাজ করেছেন। কাজে থাকা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের বডি ভ্যাটের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করেছে রুবেল। বিষয়টি র‍্যাংকস কর্তৃপক্ষ জানার পর তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়।

পরে দুই বছরের বেকার জীবন পার করে বিআরটিএ’র পাশে অনলাইন ব্যাংকিং জমার জন্য শাহারাস্তি বিজনেস সেন্টার নামে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুবেল গড়ে তোলেন একটি চক্র, সে চক্রের মাধ্যমে করোনা কালীন সময়ে (বিআরটিএ’র কার্যক্রম বন্ধ থাকায়) গ্রাহকের গাড়িগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে থাকে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্যাক্স টোকেনের বিআরটিএ’র কোষাগারে মাত্র ৫২ টাকা জমা দিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের গাড়ির ইনকাম ট্যাক্সের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

পরবর্তীতে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই চক্রটি। এর মধ্যে গত ১৫ মে ২০২৩ সালে র‍্যাবের অভিযানে কয়েক জনকে আটকের পরও মূল আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। চক্রটি এখনও বিআরটিএ’তে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের জিম্মি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে , এই চক্রটি সঙ্গে বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওইসব কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একজনের টিন সার্টিফিকেট আরেক জনের নামে দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে উপার্জন করে রুবেল হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক , করেছেন ফ্ল্যাট, গাড়ি, অঢেল সম্পদ। আবার তার স্ত্রীর নামে দিয়েছেন ৮টি সিএনজি গাড়ি। রুবেলের নামে রয়েছে ৭টি সিএনজি ও ১ মাইক্রোবাস। এছাড়াও নামে-বেনামে বনে গেছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
সম্পদের বিবরণ:

সেনপাড়া পর্বতা, কাফরুলে ফ্ল্যাট নং ৩৩১/২/৩ ।
দোকান, মিরপুর শাহআলী প্লাজা তৃতীয় তলা শাহরাস্তি টেলিকম এন্ড ইলেকট্রনিক্স, দোকান নং-২০।
রুবেলের ক্রয়কৃত গাড়ির বিবরণ:
১। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৯০৭ — ক্রয়ের তারিখ ১৬/০৫/২০২২; ৭ লক্ষ টাকা; মো. আজিজুর রহমান ফারুকের কাছ থেকে ক্রয়।
২। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৩৮ — ক্রয়ের তারিখ ১৬/০২/২০২৩, বিক্রেতা মো. নাজিমুল হক খান, ৮ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেছে।
৩। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৯৩২ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৩/২০২৩, মো. হাসান থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে।
৪। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৮২৯ — ক্রয়ের তারিখ ১১/১১/২০২৪, উর্মি ট্রেডার্স প্রোপ্রাইটার মো. অলিউর রহমান থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছে।
৫। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৬০৩ — ক্রয়ের তারিখ ২২/০৪/২০২৫, মো. আমিনুল ইসলাম থেকে ৭ লক্ষ টাকায় ক্রয় করে।
৬। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-২৮০৮ — মো. আজিজুর রহমান থেকে ১০ লাখ টাকা ক্রয় করেছে।
৭। ঢাকা মেট্রো-চ-১২-৭৫৫২ (মাইক্রোবাস) — পাইনিয়র অটোমোবাইল থেকে ৩০ লাখ টাকায় ক্রয়। যদিও একেকটি সিএনজির বাজার মূল্য ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা এখানে দালাল রুবেল দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। কাগজে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা দেখানো হলেও গাড়িগুলো কেনা হয়েছে বাজারমূল্যেই। রুবেলের টিআইএন নাম্বার ১৭৩৩০২৩৯৬০১৮; সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ ৯ মার্চ ২০২০। রুবেল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২০১৪ সালে তানিয়া আক্তারের সঙ্গে। শ্বশুর কৃষক হলেও মেয়ে বিবাহের পর রুবেলের বদৌলতে হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। রুবেলের স্ত্রীর নামেও রয়েছে ৮টি সিএনজি।
তানিয়া আক্তারের সম্পদের বিবরণ:
১। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪০১ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১, মো. আরমগীর হোসেন থেকে ৬ লাখ টাকায় ক্রয় করে।
২। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৪৭ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১, মো. আবু সাইদ থেকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছে।
৩। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৪৫ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১, মো. মিজানুর রহমান মিজান থেকে ৭ টাকায় ক্রয় করে।
৪। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৫২ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১, বিকাশ চন্দ্র সরকার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করে।
৫। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫২৪ — ক্রয়ের তারিখ ২৮/০৬/২০২২, লালন চন্দ্র দাশ থেকে ৭ লাখ টাকায় ক্রয় করেছে।
৬। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫০৮ — ক্রয়ের তারিখ ১৫/০৩/২০২২, মো. নাসির উদ্দিন থেকে ৮ লাখ টাকায় ক্রয় করে।
৭। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫০৭ — ক্রয়ের তারিখ ১৫/০৩/২০২২, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন থেকে ৭ লাখ টাকায় ক্রয় করে।
৮। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫২৫ — দিপক কুমার পোদ্দারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছে। ২৭ বছর বয়সে স্বামীর বদৌলতে হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। টিআইএন সার্টিফিকেট নাম্বার ৩৭৪১৫১২৪৪৩৫৩; ইস্যুর তারিখ জুন ৭ /২০২১।

যদিও প্রতিটি সিএনজির বাজার দর ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা, এখানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে বিআরটিএ’র সাধারণ কর্মকর্তাও কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণ জানান।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন পরপর লোক দেখানো অভিযানের মধ্যে দিয়ে আড়ালে থেকে যায় এ ধরনের রুবেলসহ তার চক্রটি। তাদের কাছেই বন্দি থাকে লাখো সেবা গ্রহীতা। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ভুক্তভোগীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান দ্রুত এসব প্রতারকদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং প্রতারক ও দালাল মুক্ত নিশ্চিত করা হোক।

সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করে ভালো সেবায় তাদের প্রত্যাশা। আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত জানা জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button