
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে শঙ্কা কম হলেও কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছুসংখ্যক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে নিয়ে অযাচিতভাবে শঙ্কা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষ কখনো এ ধরনের দুরভিসন্ধি কাজে সমর্থন দেবে না। মির্জা ফখরুল আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
রোববার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের স্থান পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি। আগামীকাল সোমবার জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ইতিহাসও তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে ৭৫টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। তাদেরকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়, জেলে থাকতে হয়, এমনকি গ্রেপ্তার এড়াতে ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। এই সময়ে বিএনপি একটি অরাজনৈতিক, অগণতান্ত্রিক এবং কঠোর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়েছিল।
তবে মহাসচিবের কথায় আজ ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপি নতুন উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন অত্যন্ত সফল হবে এবং দলের মধ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটাবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন, যা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও সম্ভাবনার নতুন সূচনা তৈরি করবে।
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, সহসভাপতি আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রতি কোনো নির্ভরতা না রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও জনগণের বিশ্বাস ও ভোটের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ঐক্যের প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন, যা আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রস্তুতি ও দিকনির্দেশনা বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ।







