
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা–সমালোচনা চললেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে। ইসি সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আমরা প্রশাসনিক অখণ্ডতা, ভৌগোলিক বাস্তবতা, সর্বশেষ আদমশুমারি এবং ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য বিবেচনা করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছি। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অবহেলা এখানে হয়নি।”
আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শুধু প্রশাসনিক অখণ্ডতার ভিত্তিতে সীমানা টানা হলে নানা সমস্যা তৈরি হয়। আবার ভৌগোলিক অখণ্ডতা বাদ দিলে তা-ও নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে। তাই সব দিক সমন্বয় করে যৌক্তিকভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। তবে কোথাও কোথাও স্থানীয় মানুষজন এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা প্রতিকূল পরিস্থিতির তথ্য ইসির কাছে আসেনি বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, “ইসির কাছে প্রতিকূল পরিস্থিতির কোনো খবর নেই। নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রশ্নই আসে না।”
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে নিবন্ধনের চূড়ান্ত ধাপে দলগুলোর নাম নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হবে। পুরো প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে শেষ হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কোনো আইনের সঙ্গে যদি সাংঘর্ষিক কিছু থাকে, তা সমন্বয় করা হবে।
সার্বিকভাবে ইসি সচিবের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন আসন পুনর্নির্ধারণে আইনি কাঠামো, জনসংখ্যা ও ভোটারের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে যে প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।







