
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ ঘিরে পাল্টে গেছে অনেক হিসাব–নিকাশ। বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এখন আর ‘বহিরাগত’ নন। আসন পুনর্নির্ধারণের পর এলাকাজুড়ে দেখা গেছে আনন্দ মিছিল, উচ্ছ্বাস, সমর্থনের ঢল।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদের ৩৭টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ করে। এর ফলে বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ও চান্দুরা ইউনিয়ন দুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর-বিজয়নগর) থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনটি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশকে নিয়ে গঠিত।
এই পরিবর্তন রুমিন ফারহানার জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি। এত দিন দলের ভেতরকার প্রতিপক্ষরা তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে কটূক্তি করতেন। নতুন সীমানার ফলে সেই তকমা কেটে গেছে। কারণ তাঁর পারিবারিক শিকড়—বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদের ভিটা—এখন সরাসরি এ আসনের অংশ।
তবে এই পুনর্নির্ধারণের পথে বাধাহীন ছিল না। বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব, এনসিপি’র আন্দোলন, মহাসড়ক অবরোধ, এমনকি নির্বাচন কমিশনের শুনানিকালে হাতাহাতি—সবই ঘটেছে এ নিয়ে। রুমিন ফারহানার সমর্থকরা তাঁর পক্ষে আন্দোলন করেছেন, আরেকদিকে জেলা বিএনপির একাংশ ও এনসিপির নেতারা অবস্থান নিয়েছেন বিপক্ষে।
সীমা পুনর্নির্ধারণের গেজেট প্রকাশের পর শুক্রবার রাতে শাহবাজপুর গ্রাম থেকে ইসলামপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করতে যান রুমিন ফারহানা। শত শত সমর্থক তাঁকে বরণ করে নেন। বিজয়নগরের রামপুর থেকে শুরু হয়ে ইসলামপুর পর্যন্ত চলে আনন্দ মিছিল।
ইসলামপুরে সমাবেশে আবেগঘন কণ্ঠে রুমিন ফারহানা বলেন,
“আজ আমি আমার দাদার ভিটায় দাঁড়িয়ে কথা বলছি। আজ আমি যে আবেগ-আনন্দ পাচ্ছি, গত ১৫ বছরে কোথাও পাইনি। এই ঘরেই আমার জন্ম, এই মাটিতেই আমার শিকড়। আপনারা আমার হাতকে শক্তিশালী করেন, আমি ওয়াদা দিচ্ছি—আজীবন আপনাদের পাশে থাকব।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“১৯৭৩ সালে আমার বাবাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি করেছিলেন। কিন্তু ফল উল্টে দেওয়া হয়েছিল। আগামী দিনে যেন কোনো শক্তি আপনাদের ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করতে না পারে—সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। আমাকে আপনারা এমপি করানোর দায়িত্ব আপনাদের। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আপনাদের সুখে–দুঃখে আমি থাকব।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। এখানেই একাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সক্রিয় হয়েছেন রুমিন ফারহানা। সীমানা পুনর্নির্ধারণ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন গতি দিল। দলের ভেতরে সমালোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এখন উচ্ছ্বসিত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে রাজনীতির সমীকরণ বদলে গেছে। বহিরাগত তকমা ঝেড়ে ফেলে এখন এলাকার নিজস্ব প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন রুমিন ফারহানা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই পরিবর্তন তাঁকে শক্তিশালী করেছে, আর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।







