বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

বাড়িতে হামলার ঘটনায় কাদের সিদ্দিকীর ক্ষোভ “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর এই স্বৈরাচারী মনোভাব আশা করিনি”

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণির (জেলা সদর সড়ক) নিজ বাসভবনে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।

তিনি বলেন, “গত রাতে আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে। কারা করেছে জানি না। ১০–১২ জন লোক ছিল, তার মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। তারা ঢিল ছুড়েছে, গাড়ি ভেঙেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমি এমন স্বৈরাচারী মনোভাব আশা করিনি। কোটাবিরোধী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর আমরা একটি গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশা করেছিলাম।”


শনিবার রাত আনুমানিক একটার দিকে কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১০–১৫ জনের একটি মুখোশধারী দল হঠাৎ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে মই ব্যবহার করে তারা বাসার গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। কর্মচারীরা চিৎকার করলে এবং আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।


সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমার বাড়ি যদি ভেঙে দেশে শান্তি আসে, দেশের কল্যাণ হয়—আমি তাতেও রাজি আছি। বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে গিয়েছিলাম, তখনও আমার গাড়ি ভাঙা হয়েছিল। আজও ভাঙল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এভাবে আমরা কি শান্তি পাবো?”

তিনি আরও বলেন, “২৬ বছর হলো নতুন দল করেছি। আওয়ামী লীগ আমাদের অনেক প্রোগ্রাম করতে দেয়নি। তারপরও যদি সবাইকে আওয়ামী লীগের দোসর বানানো হয়, তাহলে এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।”


কাদের সিদ্দিকী আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, “আমি তো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। যদি আমার বাড়ি নিরাপদ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি কীভাবে নিরাপদ থাকবে? এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক, তারই বহিঃপ্রকাশ।”


কাদের সিদ্দিকী এ সময় তার বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “কয়েক দিন আগে মঞ্চ ৭১–এর সভায় তিনি আলোচক হিসেবে গিয়েছিলেন। তাঁকে এবং আরও অনেক বক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ যারা মব সৃষ্টি করেছে, যারা সভায় বাধা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা আইন ও ন্যায়নীতির চরম ব্যত্যয়।”


এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী জানান, তিনি হামলার ঘটনায় মামলা করবেন। একইসঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, এ ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করতে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা জাগ্রত হোন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আমরা যদি আজ চুপ করে থাকি, আগামী প্রজন্মের জীবন, সম্পদ ও সম্মান—সবই হুমকির মুখে পড়বে।”


এদিকে রবিবার কাদের সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা বাসাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু একই সময়ে ‘ছাত্র সমাজের’ ব্যানারে আরেকটি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ফলে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এই হামলার ঘটনায় টাঙ্গাইলসহ সারা দেশে আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একজন নেতার বাড়িতে হামলা নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button