
কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পর্যটন এলাকায় সাদা পাথরের নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় ৫২ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই লুটপাটে দায়ী রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) এবং বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। পাশাপাশি, চারটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকসহ স্থানীয়দেরও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার পাথর আত্মসাৎ করা হয়। পাথর উত্তোলনের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও পর্যটন এলাকা থেকে অবৈধ উত্তোলন এবং স্থানীয় স্টোন ক্র্যাশার কারখানায় জমা দেওয়ার মাধ্যমে চুরি লুকানো হতো।
দুদক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কোম্পানীগঞ্জের চারজন ইউএনও, পুলিশ সুপার ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি, পাথর চুরির বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য দায়ী। এছাড়া, বিজিবি সদস্যরাও অর্থের বিনিময়ে লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিএনপির ২১ জন, আওয়ামী লীগের ৭ জন, জামায়াত ও এনসিপির ৪ জন, এবং মাদরাসা শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ আরও ১০ জন যুক্ত থাকায় মামলা এবং অনুসন্ধান সুপারিশ করা হয়েছে।
দুদক সিলেট উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাৎ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করা হয়েছে এবং পাথর চুরি ও প্রশাসনের অবহেলার বিষয়গুলো অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।







