বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মামলায় তার সঙ্গে আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মা রেহানা সিদ্দিক, ভাই রাদওয়ান সিদ্দিক এবং বোন আজমিনা সিদ্দিক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক তার বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে খালা শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি প্লট তার পরিবারের সদস্যদের জন্য সংগ্রহ করেন। তবে আইন অনুযায়ী রাজধানী বা এর আশপাশে যদি কারও জমি বা ফ্ল্যাট থাকে, তাহলে তারা সরকারের বহুল আকাঙ্ক্ষিত পূর্বাচল প্রকল্পে নতুন কোনো প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য নন।

মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, যদি টিউলিপ সিদ্দিক দোষী সাব্যস্ত হন তবে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে আজীবন কারাদণ্ড।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আইনজীবী তারিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ট্যাক্স আইডি নম্বর পাওয়া গেছে। তবে টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি শৈশব থেকে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র ধারণ করেননি।

এমপি টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে একে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ এক বিবৃতিতে বলেন,
“এই তথাকথিত বিচার সম্পূর্ণ ভাঁওতা। আমাকে কখনো আদালতের সমন পাঠানো হয়নি, কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি, কিংবা আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কোনো যোগাযোগ করেনি। কেবলমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে আমার নাম কলঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পরবর্তীতে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। সে সময়কার সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়।

টিউলিপ সিদ্দিক চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকারের ট্রেজারি মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস এক তদন্তে টিউলিপের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাননি। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, টিউলিপ তার খালার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য “খ্যাতির ঝুঁকি” সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না।

বর্তমান মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক তিনটি অভিযোগের মুখোমুখি, পাশাপাশি ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে রাশিয়ান অর্থায়নে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে নির্মিত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে দুদক আলাদা একটি মামলা তদন্ত করছে। এ অভিযোগ উত্থাপন করেছেন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ববি হক হজ্জাজ।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৭৪ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে।

আগামী ২৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button