
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে প্রতিযোগিতায় এক ধাপ এগিয়ে থাকতে এবার সরাসরি পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন মার্ক জাকারবার্গ। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিসট্রা’ এবং দুই সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ ‘ওকলো’ ও ‘টেরাপাওয়ার’-এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি করেছে মেটা।
এই চুক্তির আওতায় মেটা মোট ৬ গিগাওয়াটের বেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিশ্চয়তা পেয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ডেটা সেন্টারগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
ছোট রিঅ্যাক্টরে বড় ভরসা
মেটার এই বিশাল পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর’ বা এসএমআর (SMR) প্রযুক্তি। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ওকলো তাদের বিশেষায়িত ‘অরোরা পাওয়ারহাউস’ রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে মেটাকে বিদ্যুৎ দেবে। প্রতিটি রিঅ্যাক্টর ৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন এবং মেটার চাহিদা মেটাতে তারা এক ডজনেরও বেশি এমন রিঅ্যাক্টর স্থাপন করবে।
অন্যদিকে, বিল গেটসের বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান টেরাপাওয়ার ২০৩২ সাল নাগাদ সরবরাহ শুরু করবে। তাদের রিঅ্যাক্টর নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে গলিত সোডিয়াম, যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি উন্নত উপায়ে শক্তি স্থানান্তর করতে সক্ষম।
বিদ্যমান কেন্দ্র থেকে দ্রুত সরবরাহ
ভবিষ্যতের অপেক্ষায় বসে না থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ পেতে ভিসট্রার সাথে ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে মেটা। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ‘পেরি’ ও ‘ডেভিস বেস’ কেন্দ্র থেকে ২.১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। পাশাপাশি পেনসিলভানিয়ার ‘বিউভার ভ্যালি’ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে আরও ৪৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মেটার ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করা হবে।
খরচ ও সম্ভাবনা
চুক্তির আর্থিক বিষয়গুলো মেটা গোপনীয় রাখলেও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যমান কেন্দ্র থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক কম পড়বে। টেরাপাওয়ারের ধারণা অনুযায়ী, প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের খরচ হতে পারে ৫০ থেকে ৬০ ডলার। তবে ওকলোর ক্ষেত্রে এই খরচ কিছুটা বেশি, প্রায় ৮০ থেকে ১৩০ ডলারের মধ্যে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিশাল পরিমাণ এআই প্রসেসিং নিশ্চিত করতেই মেটা এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।







