বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
প্রচলিত

তারেক রহমানের রূপকল্প: বিলেতি অভিজ্ঞতার প্রতিফলন না কি দেশীয় বাস্তবতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সম্পাদকদের সাথে এক দীর্ঘ মতবিনিময়ে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বৈঠকে তাঁকে অত্যন্ত ধীরস্থির, মনোযোগী এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাসম্পন্ন এক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখা গেছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক লন্ডনে অবস্থানের ফলে ব্রিটিশ ‘ওয়েস্টমিনস্টার’ শাসন ব্যবস্থার যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন, তার একটি ছাপ তাঁর দেওয়া রূপকল্পগুলোতে স্পষ্ট। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিলেতি মডেলের এই উন্নয়ন ভাবনা বাংলাদেশের জটিল বাস্তবতায় কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

উন্নয়ন ভাবনায় আধুনিকতার ছোঁয়া তারেক রহমান তাঁর আলোচনায় আইটি খাতের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং ভোকেশনাল শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক কোর্স চালুর যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন, তা সমাদৃত হয়েছে। এ ছাড়াও বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা প্রবাসীদের আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্ন যেখানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ নিয়ে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অন্যতম আলোচিত দিক হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষি কার্ড’। তবে এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধের বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট। সমালোচকদের মতে, ব্রিটেনের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা (Social Security) কয়েকশ বছরের বিবর্তনের ফল। বাংলাদেশের ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পাইলট প্রকল্প বা বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া এমন বড় উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে, মাঠ পর্যায়ে এই কার্ডগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতরা তা পাবেন কি না—সেই নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি।

মূল চ্যালেঞ্জ: দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় তিনটি প্রশ্ন—বেকারত্ব দূরীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির লাগাম টানা। তারেক রহমান বিভিন্ন খাতের সংস্কারের কথা বললেও, দুর্নীতির মতো গভীর সংকটের সমাধানে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা বা ‘জিরো টলারেন্স’ পলিসি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি। দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ও সরকারি কাজে দুর্নীতির ব্যাপকতা মাথায় রেখে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে বিএনপি কীভাবে এই ধারা ভাঙবে, তা শোনার অপেক্ষায় রয়েছে জাতি।

দলীয় সরকার না কি জনগণের সরকার? মতবিনিময়ের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রাষ্ট্রের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। বক্তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের থাকে না, তা হয়ে যায় জনগণের। তারেক রহমানের ‘লন্ডন অভিজ্ঞতা’ যদি দেশের মাটিতে সফল করতে হয়, তবে উন্নয়ন পরিকল্পনায় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক বিতর্ক ও গবেষণার মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।

শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের এই রূপকল্পের সাফল্য নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে এর নৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button