
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক পণ্যের মেলা ‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শো’ (সিইএস)-তে এবার সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে স্যামসাংয়ের তিন ভাঁজ করা স্মার্টফোন ‘গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড’। গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় সীমিত পরিসরে অবমুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম ফোনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে প্রদর্শন করা হলো।
নকশা ও ব্যবহারযোগ্যতা
গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ডের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দুই পাশ থেকে ভাঁজ হওয়ার ক্ষমতা। সম্পূর্ণ ভাঁজ খোলা অবস্থায় এটি একটি ১০ ইঞ্চি পর্দার ছোট ট্যাবলেট কম্পিউটারে পরিণত হয়। কাজের প্রয়োজনে ব্লুটুথ কি-বোর্ড ও মাউস যুক্ত করলে ফোনটিকে একটি ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে ভাঁজ করা অবস্থায় এটি সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়ে কিছুটা স্থুল মনে হতে পারে, যা হাতে নিলে অনেকটা দুটি ফোন একসাথে ধরার মতো অনুভূতি দেয়।
বিশেষ ফিচারসমূহ
-
ডেস্কটপ মোড: ফোনটির পর্দা স্প্লিট স্ক্রিন বা আলাদা আলাদা উইন্ডোর মতো ব্যবহার করা যায়, যা অনেকটা ডেস্কটপ কম্পিউটারের অভিজ্ঞতা দেয়।
-
উত্পাদনশীলতা: স্যামসাং জানিয়েছে, যারা স্মার্টফোনে মাল্টি-টাস্কিং বা উৎপাদনশীল কাজ বেশি করেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
-
পোর্টেবিলিটি: ১০ ইঞ্চির বিশাল পর্দা হওয়া সত্ত্বেও দুই পাশ থেকে ভাঁজ করা যায় বলে এটি সহজেই পকেটে বহনযোগ্য।
বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্টের সহযোগী পরিচালক লিজ লি এই ফোনটিকে স্যামসাংয়ের একটি ‘কৌশলগত পরীক্ষামূলক পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বাজারে নতুন এই নকশা বা ফর্ম ফ্যাক্টর গ্রাহকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা যাচাই করাই স্যামসাংয়ের মূল লক্ষ্য।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে ফোনটি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে বা এর দাম কত হবে, সে বিষয়ে স্যামসাং এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় স্যামসাংয়ের এই উদ্ভাবন পুরো স্মার্টফোন শিল্পে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।







