
আসন্ন গণভোটে সংস্কারের বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিলে আগামী সংসদ নির্বাচনে জেতা সম্ভব হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যারা সংস্কারের বিরোধিতা করে ‘না’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছে, তারা মূলত জনগণের বিপক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের লক্ষ্যে ‘ভোটের গাড়ি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিনই সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

কার্ডের রাজনীতি ও দুর্নীতির শঙ্কা নাম উল্লেখ না করে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “অনেকে এখন ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের লোভ দেখাচ্ছেন। কিন্তু এই বিপুল অর্থের উৎস কী, তা কেউ বলছে না। শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে, দলীয় লোকরাই সুবিধা পাচ্ছে আর সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাটের বোঝা বাড়ছে।” ২০০৮ সালের ‘১০ টাকায় চাল’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এবার সচেতন, সস্তা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভোট কেনা যাবে না।
সংস্কার না হলে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের (এনসিপি) পছন্দ না হলে ভোট দিয়েন না, কিন্তু দেশের স্বার্থে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।” তিনি মনে করেন, ‘না’ ভোট জয়ী হওয়া মানেই হলো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা। এতে জুলাই অভ্যুত্থান পুরোপুরি ব্যর্থ হবে এবং ভালো মানুষ সরকারে গেলেও কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য অনুষ্ঠানে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, পতিত আওয়ামী লীগ জুলাই সংস্কারকে নসাৎ করতে তৃণমূল পর্যায়ে ‘না’ ভোটের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে থাকা কিছু দলও পর্দার আড়ালে এই ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করছে। এই ষড়যন্ত্র রুখতেই এনসিপি দেশজুড়ে ‘ভোটের গাড়ি’ নিয়ে প্রচার শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ১১-দলীয় মোর্চার ব্যানারে নির্বাচনে লড়ছে এনসিপি। তারা বিশ্বাস করে, এই গণভোট বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বছরের জন্য এক নতুন গণতান্ত্রিক পথ দেখাবে।





