বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
প্রচলিত

গণভোট কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

রংপুর প্রতিনিধি

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আগামীতে দেশ কেমন হবে এবং কোন পথে চলবে, তা নির্ধারণের চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতে। দেশ পরিচালনার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে আসন্ন গণভোটে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ভোট কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য।

আজ বুধবার বিকেলে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটের গুরুত্ব আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে সংস্কারের পথ থেকে সরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। এটি কেবল একটি ভোট নয়, এটি আগামী ৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে দেশ পরিচালনার একটি রূপরেখা বা গাইডলাইন।”

তিনি আরও বলেন, গত ৩৫ বছরে দেশে কোনো গণভোট হয়নি। সাধারণ নির্বাচনে আমরা একজন ব্যক্তির সততা বা যোগ্যতা বিচার করে ভোট দেই, কিন্তু গণভোটে আমরা বিচার করছি একটি ব্যবস্থার। জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যে সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নের জন্যই এই গণভোট।

ক্ষমতার ভারসাম্য ও আইনি সংস্কার রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি চাইলেই যেকোনো দণ্ডিত অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু জুলাই সনদে একমত হওয়া সংস্কার অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি এককভাবে কাউকে ক্ষমা করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়, যা তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই ‘শিরদাঁড়াহীন’ ব্যবস্থার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

দলীয় মতপার্থক্য ছাপিয়ে জাতীয় ঐক্য অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস বলছেন না যে তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে আস্থা রাখুন, বরং তিনি জনগণের সরাসরি মতামতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ যা দেশ গড়ার পথ নির্দেশ করবে।”

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সম্মেলনের পর অধ্যাপক রীয়াজ আট জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button