
আসিফ আলী
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যা পাকিস্তানে শুধু ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ধ্বংস করেনি, বরং নারীদের ওপর সহিংসতা ও বৈষম্যের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও তীব্র করছে এবং এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নারীরা।
সিন্ধুর দাদু জেলার আহমেদ খান বাবর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাব বন্যায় সব হারিয়ে আজও একটি অস্থায়ী কুঁড়েঘরে বসবাস করছেন। সহধর্মিণীর মৃত্যুর পর অসুস্থ স্বামী ও কয়েক সন্তানের দায়িত্ব নিতে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। “অভাব আমাদের জীবনটাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে,” বলেন তিনি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরের বন্যায় ১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়, ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
যদিও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবুও নারীরা বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি রয়েছেন।জাতিসংঘের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের ৮০ শতাংশ নারী এবং তারা পুরুষদের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পারিবারিক ও যৌন সহিংসতার হার বাড়ছে।বিশেষজ্ঞরা জানান, বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতে নারী-পুরুষের জন্য নিরাপদ আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ছে।
দারিদ্র্য ও ক্ষুধার কারণে অনেক পরিবার অল্পবয়সী কন্যাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে—এদের অনেককে বলা হচ্ছে “ক্লাইমেট ব্রাইডস”। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে।অন্যদিকে, আয়ের অভাব, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পুরুষদের হতাশা পারিবারিক সহিংসতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটও মারাত্মক আকার নিচ্ছে—হতাশা, উদ্বেগ, ট্রমা ও সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো লিঙ্গ-সংবেদনশীল সহায়তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, নগদ সহায়তা ও শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অভাব সমস্যার সমাধানকে ব্যাহত করছে।
স্বাধীন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ফাতিমা ইয়ামিন বলেন, “সমস্যার মূল কারণ শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, বরং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। নারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ উদ্যোগ নিলে সহিংসতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”







