বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার উদ্বোধন করলেন পর্যটন মন্ত্রী

আরিফুর সাদনান রহমানঃ রাজধানীতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকায় এই মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।এবারের মেলায় ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে। প্রায় ৩০০টি স্টলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভাবনার দেশ। আমাদের ভূখণ্ডে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন; বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার; চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, ঝরনা ও হ্রদ; আর রয়েছে আমাদের মানুষের আন্তরিকতা, উষ্ণ আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা কেবল কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতি।

সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত দুই দশকে পর্যটন খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমরা সেই বাস্তবতা থেকেই যাত্রা শুরু করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা শূন্য থেকে শুরু করছি—কিন্তু আশাবাদ নিয়ে শুরু করছি। আমাদের মূলমন্ত্র হলো—আগামীকাল নয়, শুরু হোক এখনই।

মন্ত্রী জানান, সরকার একটি টুরিজম মাস্টার প্লান প্রণয়নের কাজ করছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় এক হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন সম্পদকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন পর্যটন নীতিমালায় বেসরকারি বিনিয়োগ এবং পবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান আট থেকে নয় শতাংশে উন্নীত করা।

এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত অঙ্গীকার ছাড়া পর্যটনশিল্প টেকসইভাবে বিকশিত হতে পারে না, বলেন মন্ত্রী।

বক্তব্য শেষে মন্ত্রী মেলায় বিভিন্ন দেশের স্টল পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলালসহ নেপাল, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতগণ।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button