
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার ওপর অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা ও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে সতর্ক করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণভোটে বিপুল জনসমর্থন না থাকলে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সব অর্জন প্রশ্নের মুখে পড়বে।
জুলাই অভ্যুত্থান ও রাষ্ট্র সংস্কার
চরমোনাই পীর তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ শিক্ষার্থী ও জনতার আত্মত্যাগের কারণেই দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও তাদের রেখে যাওয়া আইন ও সংস্কৃতি এখনো বিলুপ্ত হয়নি। ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে।”
গণভোটের গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ
বিবৃতিতে তিনি কয়েকটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
-
আইনি ভিত্তি: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট অপরিহার্য।
-
অস্তিত্বের লড়াই: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।
-
রাজনৈতিক নিস্পৃহতা: নির্বাচনের জোয়ারে জুলাই সনদের আলোচনা হারিয়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের আলোচনা জারি রাখা দেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান
ইসলামী আন্দোলনের আমির অন্তর্বর্তী সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল নির্বাচনের দিকে মনোযোগী না হয়ে জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, “বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচন—সবই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”
জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে জননিরাপত্তার ওপর জোর দেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিয়ে জনমনে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে, যা নিরসনে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।







