বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আজিজ বোর্ডিংয়ের সেই ঘর পালানো ছেলেটিই আজকের ‘রক সম্রাট’ জেমস

বিনোদন প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

তিনি যখন মঞ্চে গিটার হাতে দাঁড়ান, হাজার হাজার তরুণ চিৎকার করে ওঠে— ‘গুরু! গুরু!’ তিনি কারো কাছে নগর বাউল, কারো কাছে রকস্টার। কিন্তু এই খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানোর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। এক সরকারি কর্মকর্তার জেদি ছেলে কীভাবে ঘর ছেড়ে বাউণ্ডুলে জীবন কাটিয়ে বাংলা গানের ইতিহাসের ধ্রুবতারা হয়ে উঠলেন, সে গল্প কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়।

ঘর ছাড়ার সেই উত্তাল দিন

জেমসের শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামে। বাবা মোজাম্মেল হক ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। উচ্চপদস্থ বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে পড়াশোনা করে বড় হবে। কিন্তু জেমসের মাথায় তখন সুরের পোকা। পড়ার টেবিল ছেড়ে গিটারে মগ্ন থাকা ছেলের সাথে বাবার দূরত্ব বাড়ে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় জেদ করে ঘর ছাড়েন জেমস। পকেটে টাকা নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। ঘর পালানো সেই কিশোরের আশ্রয় হয় চট্টগ্রামের পাঠানটুলীর ‘আজিজ বোর্ডিং’-এ। ১২ বাই ১২ ফুটের এক অন্ধকার ছোট ঘর থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন সংগ্রাম।

ফিলিংস থেকে নগর বাউল: উত্থানের গল্প

১৯৮০ সালে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। প্রথম দিকে ইংরেজি গান কভার করলেও ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। তবে জেমসকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয় ১৯৮৮ সালের অ্যালবাম ‘অনন্যা’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘জেল থেকে বলছি’, ‘নগর বাউল’, ‘লেইস ফিতা লেইস’ এবং ‘দুষ্টু ছেলের দল’-এর মতো অ্যালবামগুলো তাকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘নগর বাউল’।

বলিউড জয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি

বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে জেমস প্রথম বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে বলিউডে রাজত্ব করেছেন। ২০০৫ সালে ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমায় তাঁর ‘ভিগি ভিগি’ গানটি পুরো ভারতবর্ষকে কাঁপিয়ে দেয়। এরপর ‘ওহ লামহে’, ‘আলবিদা’ বা ‘রিশতে’ গানগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন সুরের কোনো সীমানা নেই। জেমস হয়ে ওঠেন উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রক কণ্ঠ।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

চলচ্চিত্রের গানেও জেমস সমান সফল। ‘তোর প্রেমেতে অন্ধ আমি’ ও ‘দেশা- দ্য লিডার’ ছবির গানের জন্য তিনি দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তবে জেমসের কাছে তাঁর বড় পুরস্কার হলো তাঁর কোটি ভক্তের ভালোবাসা, যারা নিজেদের ‘দুষ্টু ছেলের দল’ হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।

ভক্তদের কাছে আজও তিনি ‘গুরু’

সম্প্রতি জেমস পা রেখেছেন ৬২ বছরে। বয়সের ভার তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজও দীর্ঘ চুলে গিটার হাতে মঞ্চে উঠলে তিনি সেই চিরতরুণ। নওগাঁয় জন্ম নেওয়া আর চট্টগ্রামে বড় হওয়া সেই ঘর পালানো কিশোরটি আজ বাংলা গানের অহংকার।

আজিজ বোর্ডিংয়ের সেই ১২/১২ ফুটের রুম থেকে শুরু হওয়া স্বপ্নটি আজ কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয়। জেমস কেবল একজন গায়ক নন, তিনি একটি প্রজন্মের আবেগ এবং সংগ্রামের প্রতীক।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button