বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

দিল্লি থেকে গুজব ও ঘৃণা ছড়াচ্ছেন পলাতক শেখ হাসিনা: নেপথ্যে সামাজিক মাধ্যম

জোসেফ ডি কষ্টা, সম্পাদক

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে তিনি দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

গুজব ছড়ানোর ধরনঃ সম্প্রতি বিভিন্ন অডিও ক্লিপ এবং ফেসবুক-টুইটারে ছড়িয়ে পড়া বার্তায় দেখা গেছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং দেশে অরাজকতা চলছে—এমন অতিরঞ্জিত ও বানোয়াট তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াঃ এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শেখ হাসিনা অন্য দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অস্থিরতা তৈরির যে চেষ্টা করছেন, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা দাবি করেছেন, নিজের অপরাধ ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে তিনি এখন গুজবের রাজনীতি বেছে নিয়েছেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সময় গুজব ছড়ানো হলেও, হাসিনা যে সকল বার্তা সরাসরি পৌঁছাচ্ছেন তা অত্যন্ত উস্কানিমূলক। দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে পরিকল্পিতভাবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ভারত সরকারের ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার অবস্থান ও তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারত সরকারের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দিল্লিতে আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনা যদি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে ঘৃণা ছড়ান, তবে তা দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button