বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক এমপি ডা. এইচ.বি.এম. ইকবালসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৯ অক্টোবর ২০২৫

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি-র সাবেক চেয়ারম্যান ডা. হেফজুল বারি মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে ডা. এইচ.বি.এম. ইকবালসহ তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ অনুমোদন করেছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকার স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০২.০১.০২০.২৫-১৯৭০৩ অনুযায়ী, অভিযোগ অনুসন্ধানে দেখা যায়—ডা. ইকবাল, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও দুই পুত্র ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার একটি বড় অংশ জ্ঞাত আয় উৎসের বাইরে।

দুদকের অনুসন্ধানী দল—সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান (দলনেতা) এবং উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (সদস্য)—এর প্রতিবেদন অনুযায়ী:

ডা. এইচ.বি.এম. ইকবাল:
তার নামে অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৮.৭ কোটি টাকা, যার বিপরীতে দায় রয়েছে ১৩৯ কোটি টাকা। যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৬২ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮২ টাকা মূল্যের সম্পদ তিনি অর্জন করেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ইমরান ইকবাল (পুত্র):
তার নামে পাওয়া সম্পদের পরিমাণ ৪৫.৭৩ কোটি টাকা, যার বিপরীতে জ্ঞাত আয় রয়েছে ৪০.৭০ কোটি টাকা। ফলে ৫.০৩ কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধেও ২৭(১) ধারায় পৃথক মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আঞ্জুমান আরা শিল্পী (স্ত্রী):
তার নামে পাওয়া সম্পদের পরিমাণ ১০.৮২ কোটি টাকা, যেখানে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৮ টাকা সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঈন ইকবাল (পুত্র):
তার নামে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৪৭.৭০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৪৪২ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে।

এছাড়া, একই স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনাব রথীন্দ্রনাথ দত্ত, যুগ্ম সচিব ও আঞ্চলিক পরিচালক (কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সিলেট) — তার বিরুদ্ধে একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশনা এবং বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা আদালতের মাধ্যমে চাওয়া হয়েছে।দুদক জানিয়েছে, এসব মামলা ও আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্নীতিবিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button