
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও কবর থেকে মরদেহ তুলে পোড়ানোর ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি কিংবা গণগ্রেপ্তার করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. সিদ্দিকুর রহমান। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, “যিনি প্রকৃত অপরাধী, শুধুমাত্র তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে। যাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য–প্রমাণ মিলবে, তাঁর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, গণগ্রেপ্তারের কোনো সুযোগ নেই। অপরাধে সরাসরি জড়িতরাই আইনের আওতায় আসবে।
এ সময় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু রাসেল, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলার দরবার ও বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা শরিয়তবিরোধী দাফনের অভিযোগ তুলে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয়। এতে দরবার ও বাড়ি ভস্মীভূত হয়। হামলায় অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন, যাঁদের মধ্যে ১০–১২ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পুলিশের দুটি গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহত হয়ে রাসেল নামের একজন মারা যান।
এরই মধ্যে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে ছয়জন এবং সোমবার দুপুরে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মোহাম্মদ বিপ্লব ওরফে বিল্লু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। মামলায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তবে নুরাল পাগলার পরিবার থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। এদিকে ফরিদপুরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।







