
আবু বক্কর সিদ্দিক
জাতিসংঘ দেশগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব তাদের হালনাগাদ জলবায়ু পরিকল্পনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, বিশ্বের প্রধান দূষণকারী রাষ্ট্রগুলোর অনেকে এখনো নতুন প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেনি।
প্যারিস চুক্তির আওতায় প্রায় ২০০ দেশকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য ও তার বাস্তবায়নের নীলনকশা পেশ করার কথা ছিল।
তবে মাত্র কিছু দেশ সময়মতো পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো শক্তিধর অর্থনীতি এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তায় বলেন, এসব পরিকল্পনা শুধু কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবজাতির জলবায়ু সংকট মোকাবিলার অন্যতম ভিত্তি।
আগামী নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ–৩০–এর আগে ইউএনএফসিসিসি নতুন প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা করবে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ জমা দেওয়া পরিকল্পনাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রায় ১৯০টি দেশ এ বছর সংশোধনী জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডাসহ প্রায় ৩০টি দেশ তাদের পরিকল্পনা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও একটি পরিকল্পনা দিয়েছে, তবে তা মূলত প্রতীকী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে দেশগুলো জলবায়ু উদ্যোগে ধীরগতি দেখাচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া বিশ্বকে নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনতে এই দশকের মধ্যেই নির্গমন প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা জরুরি।
জাতিসংঘ বিশেষ জলবায়ু ইভেন্ট: ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের নতুন নীতি ঘোষণা করার জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।







