
তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন বিসিএস নন-ক্যাডার চাকরিপ্রত্যাশীরা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাজধানীর রাজু ভাস্কর্যের সামনে ৮ জন চাকরিপ্রার্থী অনশনে বসেন। আজ বুধবার আরও ১০ জন যোগ দেওয়ায় অনশনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
অনশনকারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
অনশনকারীদের তিন দফা দাবি
১. বিসিএস (নন-ক্যাডার) পদে নিয়োগ (বিশেষ) (সংশোধন) বিধিমালা ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।
২. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদসহ বিসিএস নন-ক্যাডারের নামে অধিযাচনকৃত পদসমূহ প্রত্যাহার করে পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বন্ধ করতে হবে।
৩. বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডারে আগের মতো পদ বৃদ্ধি করে অধিকসংখ্যক প্রার্থী সুপারিশের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর প্রধান শিক্ষকের পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে। আন্দোলনকারী শাহ মুস্তাহিদুর রহমান বলেন,
“প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন দ্রুত নিয়োগ দিতে। এখন যদি আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, তাহলে সময় লাগবে দুই বছর। অথচ নন-ক্যাডার থেকে নিলে এক মাসেই নিয়োগ সম্ভব। সিন্ডিকেটবাজির কারণে এমনটা হচ্ছে।”
আরেক আন্দোলনকারী মো. মারুফ হোসেন বলেন, “আমরা কাফনের কাপড় নিয়েই এসেছি। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছি, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। তাই অনশন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। শুধু ৪৪তম বিসিএস নয়, ৪৩তম এবং অন্যান্য বিসিএস নন-ক্যাডাররাও আমাদের সাথে যোগ দেবেন।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস. এম. মতিউর রহমান বলেন, “নন–ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা সংশোধনের এখতিয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। এখানে পিএসসির কিছু করার নেই।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পিএসসিকে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা-র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নন-ক্যাডার চাকরিপ্রত্যাশীদের এই অনশন কর্মসূচি রাজধানীতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অনশনকারীরা। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা এখন সময়ই বলে দেবে।







