
ওসমান গণি মেবন
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত গ্রীনহাউস গ্যাস পৃথিবীর পরিবেশকে ক্রমেই অস্থিতিশীল করে তুলছে, আর্থসামাজিক বৈষম্যও বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁরা বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রান্তিকালে জ্বালানি শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত “ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মত দেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এশিয়া।
বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে:
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফসিল ফুয়েল নন প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ–এর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার হার্জিত সিং।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি সম্প্রসারণ ও ন্যায্য রূপান্তরের বৈশ্বিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।কিন্তু কয়লা, তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশটি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুযোগ:
বক্তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে কিছু প্রচেষ্টা থাকলেও তা এখনো দেশের মোট জ্বালানির খুব সামান্য অংশ। সরকার বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ প্রণয়ন করছে, তবে এই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান পরিকল্পনা ও নীতির সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
আলোচনায় অংশ নেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, সেন্টার ফর রিনিউয়েবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ-এর এশিয়া ক্যাম্পেইনার শিবায়ন রাহা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, সিএপিএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, আইইইএফএ–এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম এবং ৩৫০ ডট ওআরজি–এর দক্ষিণ এশিয়া সমন্বয়কারী আমানুল্লাহ পরাগ।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর সদস্যসচিব শরীফ জামিল এবং সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী।







