বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ
কণ্ঠস্বর অনলাইনঃ ইতালিসহ ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে তিন হাজার বাংলাদেশিকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাস্তবায়নাধীন ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ পাইলট প্রকল্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আইএলও। প্রাথমিকভাবে তিন হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজার কর্মীর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।
আগ্রহীদের সরকারি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা, পর্যটন ও আতিথেয়তা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার, শ্রমিকের অধিকার ও ইউরোপের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হচ্ছে।
আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আগে থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। আনুষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
কারিগরি প্রশিক্ষণ, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা ও প্রাক্-বহির্গমন প্রস্তুতির জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুপুরের খাবার অথবা এর পরিবর্তে মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত খরচ প্রশিক্ষণার্থীদের বহন করতে হয়। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকিট, বীমা ও অন্যান্য খরচ কে বহন করবে, তা নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগে নিশ্চিত হতে হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তথ্য ওইপি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত বিদেশি নিয়োগকর্তারা সেখান থেকে প্রার্থী বাছাই করে সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবেন। এরপর কাজের অনুমতি ও ভিসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতালির নতুন অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার আওতায় বাংলাদেশে কর্মীদের প্রাক্-যাত্রা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ইতালির নিয়োগকর্তারা বহন করছেন। তাঁর ভাষ্য, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা, নির্মাণ, বস্ত্র, যন্ত্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও ওয়েল্ডিং খাতে ইতালিতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে।







