বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

এপিবিএনের অভিযানে কোটি টাকার স্বর্ণ, মোবাইল ও নিখোঁজ শিশু উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে গত সেপ্টেম্বরে ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণ, ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন ও নিখোঁজ ছয় শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক, অস্ত্র, চোরাই মালামাল ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪ দশমিক ৩৪৪ কেজি সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ঘটনায় ২২টি মামলা করা হয়েছে এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম জানান, সেপ্টেম্বর মাসে এপিবিএনের অভিযানে নিখোঁজ ছয় শিশুসহ ২২ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ত্রবিরোধী অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮টি ইয়াবা বড়ি, ৬ কেজি ৫৮ গ্রাম গাঁজা, ১৭ দশমিক ২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট ও মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৩৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এপিবিএনের অভিযানে নিষিদ্ধ সামুদ্রিক কাঁকড়া ৪৪০ কেজি, তামার তার সাড়ে ৮ কেজি, প্রসাধনসামগ্রী ১ হাজার ৬২ কেজি, ৭৫০ ফুট কারেন্ট জাল, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৭৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ৩০৯ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ২৬২ কেজি কাপড় এবং ২ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া ১০ কেজি নকল গয়না, তিনটি এলইডি মনিটরসহ জিপিএস ট্র্যাকার, ফ্যান ও সোলার প্যানেলের ব্যাটারি এবং চোরাই মালামাল বিক্রির ৫ হাজার ২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে আরও ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪১৮টি মামলার বিপরীতে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই, কাস্টমস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৯ টাকা জরিমানা আদায় ও সাজা দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ৫২টি মামলা হয়েছে এবং ৩৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযানে ৩৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি ও চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া চুরি, মারামারি, সড়ক দুর্ঘটনা, অপহরণ, ধর্ষণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দস্যুতার বিভিন্ন ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে এপিবিএন।

পলায়নকালে এফডিএমএন সদস্যদের আটকের ঘটনাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার, একটি মামলা ও ২২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। জুয়া খেলার সরঞ্জামের পাশাপাশি ১ হাজার ৮৬০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২২টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প এলাকা থেকে ৫৫ হাজার ৮৮০ টাকা, ৩০টি ইট ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএনের মাধ্যমে মোট ৪৩টি মামলা করা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন ও নাগরিক সেবা সহজ করতে ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button