বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ইনানী রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পর্যটন মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

আরিফুর সাদনানঃ কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সাথে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।”
উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং পর্যটকদের সহায়তায় একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে প্রেরন করা এবং স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পর্যটন খাতের অংশীজনদের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জরুরী সভা আয়োজন করে সভায় সুপারিশকৃত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যটন কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় অগ্নি নিরাপত্তা (Fire Safety) জোরদার করতে পারে এবং জরুরি উদ্ধারবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন
মন্ত্রী উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং সাতজন আহত হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সি ফাইজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।

আহতরা হলেন- চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর প্রায় ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের এডিএমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকায় অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। এরই মধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, রিসোর্টটি ছাড়াও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স না থাকায় নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা শনিবার ঢাকা থেকে এসেছে।

মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনরা মর্গ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ একটু পর পর নীরবে কাঁদছেন। ডিএনএ স্যাম্পল ঢাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায় সেজন্য নিহতদের অভিভাবকরা ঢাকার মালিবাগের সিআইডি হেডকোয়ার্টারে অবস্থান করছেন বলেও জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এলাকায় থাকা স্বজনরা।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button