ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও জাল ভিসার ফাঁদঃ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বিদেশ গমনেচ্ছুরা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি, উন্নত জীবন এবং স্থায়ী বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু মানুষদের টার্গেট করছে একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ইউরোপের পর্তুগাল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ের হাই-প্রফেশন ভিসার নামে প্রতারকচক্র হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। বিনিময়ে দিয়েছে ভূয়া ওয়ার্ক পারমিট এবং অফার লেটার।
রাজধানীর মতিঝিলে আনিকা ইন্টারন্যাশনাল নামে এক এজেন্সী এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা জানান, এই এজেন্সীর মালিক আমেরিকার প্রবাসী। দীর্ঘদিন আমেরিকা থাকার কারনে বিপুল টাকার বিনিময়ে অনেককেই আমেরিকা নেয় এবং অনেকের কাছে আস্থার এজেন্সী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আমেরিকার ভিসা নীতি করাকড়ির কারনে আমেরিকা না নিতে পারলেও শুরু করে অন্যান্য দেশের ওয়ার্ক প্রসেসিং ভিসার কাজ। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিদেশে লোক পাঠানোর জন্য তাদের কোনো সরকারী বৈধ অনুমোদন নেই।
আস্থা ও বিশ্বস্ততার রেফারেন্সে এই এজেন্সীতে পর্তুগালের কাজের ভিসার জন্য আরিফ এবং নাহিদ নামের দুই যুবক দেড় লাখ টাকা জমা দেয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরের বেশী হয়ে গেলেও কাজের ভিসা তো দূরের কথা কোনো অফার লেটার দিতে পারেনি এই এজেন্সী। মাদারীপুরের কামাল মোল্লা ও দিনাজপুরের আল আমিন নামের দুইজনের জন্য দুবাই হাই-প্রফেশন ভিসার জন্য দুই দফায় ১ লাখ টাকা দিলেও সময় মতো কাগজ দিতে পারেনি। পরবর্তীতে অনেক চাপাচাপি করলে প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজার শাহরিয়ার মাহফুজ দুবাইয়ের অফার লেটার দিলে সেটা অনলাইনে চেক করলে দেখা যায় পেপারটি ভূয়া।
একইভাবে পর্তুগালের কাজের জন্য মাদারীপুরের শহিদুল, মিঠু ও পুনরায় কামাল মোল্লার পেপার এবং আনুমানিক দুই লাখ টাকা দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজার শাহরিয়ারের কাছে। অনলাইনে দ্রুত টাকার জমা দেয়ার কথা বলে বিকাশে এবং ব্যাংকে টাকা প্রদান করা হয়। মানি রিসিট চাইলে শাহরিয়ার পরে দিতে চাইলেও আর দেয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো পেপার তাদেরকে দিতে পারেনি। এতে তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠার তৈরী হলে পুনরায় শাহরিয়ার তাদেরকে অফার লেটার এবং চূড়ান্ত কাগজপত্র দেয়। আর এখানেও অনলাইনে চেক করে কাগজগুলো ভূয়া প্রমাণিত হয়। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী কাজ না হলে টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দিতে চাইলেও পর্তুগালের অন্য কোম্পানিতে পুনরায় কাগজ করে দিবে বলে টাকা ফেরত দেয়নি। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও টাকা না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত ভুক্তভোগীরা আইনের দারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিস্তারিত আসছে……







