
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী আলোচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন আদালত। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
আদালতের কার্যক্রম সোমবার মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আদালতে বাদীপক্ষের নবনিযুক্ত আইনজীবীরা অভিযোগপত্রটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার জন্য সময়ের আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, শহীদ হাদির আদর্শ ছিল শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার করা। তাই কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন এই মামলায় হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই তারা চার্জশিট নিয়ে আরও পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়েছেন।
আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৫ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও মুস্তাফিজুর রহমান মুকুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটের মূল তথ্য ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। চার্জশিট অনুযায়ী, হাদিকে সরাসরি গুলি করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ।
পলাতক আসামিদের নিয়ে উদ্বেগ তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মূল ঘাতক ফয়সাল করিম, পরিকল্পনাকারী তাইজুল বাপ্পী এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনসহ ৬ জন বর্তমানে পলাতক। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রধান তিন আসামি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।





