
দীর্ঘ আট বছরের ‘ভারপ্রাপ্ত’ তকমা ঘুচিয়ে এবং ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। গত ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দলটির একচ্ছত্র নেতৃত্বে এলেন তিনি।
নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক পরিপক্কতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফসল। ১৯৮৮ সালে বগুড়ায় প্রাথমিক সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া তারেক রহমান ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জেল-জুলুম এবং দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে থেকেও প্রযুক্তির সহায়তায় দলকে সুসংগঠিত রাখার কৃতিত্ব তাকে দেয় তৃণমূল কর্মীরা।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকে তার প্রতিটি পদক্ষেপ ও বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিপক্কতার ছাপ লক্ষ্য করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে বনানীর এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা বর্জন করার অনুরোধ জানান, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
ঐক্যের ডাক ও নতুন রূপকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রধান বার্তা হচ্ছে ‘জাতীয় ঐক্য’। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।” বিভাজনের রাজনীতির বাইরে গিয়ে ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সবাইকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এমনকি বামপন্থী দলগুলোর নেতারাও তার এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এ বিষয়ে বলেন, “বিএনপি এবার মুক্তিযুদ্ধকে সংহত করার কথা বলছে এবং বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ধারায় তারেক রহমান দল পরিচালনা করলে তা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।”
চ্যালেঞ্জ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু তা যেন জাতিকে বিভক্ত না করে।” আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দলকে নির্বাচনী ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং দেশ নিয়ে তার রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে।
জিয়া পরিবারের ঐতিহ্য আর তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন এক নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাদের দীর্ঘদিনের ‘অভিভাবকহীনতা’র অবসান ঘটেছে এবং বীরের বেশে দেশে ফেরা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ সুগম হবে।







