বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ-১ ও ২ আসনে বিএনপির ‘জোড়া’ মনোনয়ন: কৌশলী চালে কি অনৈক্যের ঝুঁকি?

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর আসনে ‘ডাবল’ বা জোড়া প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলের এই রহস্যময় ও কৌশলী সিদ্ধান্তে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রতীক আসলে কার হাতে উঠছে—সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ভোটাররা। বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঠেকানো এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবে এটি করা হলেও, শেষ পর্যন্ত ঐক্যে ফাটল ধরলে ফলাফল বিপর্যয়ের বড় আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ-১: আনিসুল বনাম কামরুল ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর নিয়ে গঠিত এই আসনে শুরুতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিসুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরই কামরুজ্জামান কামরুলের নামে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর করা আরেকটি মনোনয়ন চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বর্তমানে দুই প্রার্থীই পৃথকভাবে সভা-শোডাউন করে মাঠ গরম রাখছেন। এখানে জামায়াতের তোফায়েল আহমেদ খানও সক্রিয় থাকায় বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভোটের সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সুনামগঞ্জ-২: নাছির চৌধুরী বনাম তাহির রায়হান দিরাই-শাল্লা আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নাটকীয়ভাবে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরীও ধানের শীষের চিঠি সংগ্রহ করেছেন। এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আইনজীবী শিশির মনির সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে বিএনপির দুই বলয় একাট্টা হয়ে কাজ করতে না পারলে ভোটের বাক্সে ‘চমক’ দেখাতে পারে জামায়াত।

তৃণমূল ও সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া জামালগঞ্জের ভোটার শাহজাহান সিরাজ বলেন, “দলের প্রতীক তো একজনই পাবেন। যদি উভয় পক্ষ মন থেকে এক হতে না পারে, তবে হিতে বিপরীত হবে।” সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য খলিল রহমান মনে করেন, বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতেই হয়তো নীতি-নির্ধারকরা এই কৌশল নিয়েছেন।

তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন আশ্বস্ত করে বলেছেন, “দলের হয়ে শেষ পর্যন্ত একজনই লড়বেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা নিশ্চিত করা হবে। ধানের শীষের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ।”

সুনামগঞ্জের এই দুই আসনে বিএনপির এই ডাবল মনোনয়নের খেলা শেষ পর্যন্ত ‘কৌশল’ হিসেবে সফল হয় নাকি ‘বিভাজন’ ডেকে আনে, তা দেখার জন্য প্রতীক বরাদ্দের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button